রমজানের কারণে এবার লালন স্মরণোৎসবে থাকছে না গান ও মেলা

রমজান মাসের কারণে এবার আজ সোমবার দুপুর থেকে মাত্র এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব, থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। শুধু আলোচনা সভা ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্যদিয়ে কাল মঙ্গলবার শেষ হবে এ আয়োজন।

আ ফ ম নুরুল কাদের, কুষ্টিয়া

Location :

Kushtia
কুষ্টিয়া লালন মাজারে বাউলদের উপস্থিতি
কুষ্টিয়া লালন মাজারে বাউলদের উপস্থিতি |নয়া দিগন্ত

দোলপূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব উদযাপিত হয়। সাধু-গুরু, লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান আর গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ। তবে রমজান মাসের কারণে এবার আজ সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে মাত্র এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব, থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। শুধু আলোচনা সভা ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্যদিয়ে কাল মঙ্গলবার শেষ হবে এ আয়োজন।

তবে বাউলদের রীতি অনুযায়ী চলবে সাধুসঙ্গ। আজ দুপুরে উৎসবের উদ্বোধন করবেন লেখক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচকও তিনি।

গত রোববার সকালে ছেউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির সভাপতি মো: ইকবাল হোসেন। এ সময় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতার এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রোকনুজ জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন অ্যাকাডেমি এ স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালনভক্ত বাউল-ফকিররা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বাউল ও ভক্তদের উপস্থিতি বেশ কম। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়।

লালন মাজারে আসা লালন ভক্ত ও বাউলেরা জানান, দোলপূর্ণিমা তিথি ঘিরে প্রতিবছরের মতোই সাঁইজির দর্শনের আশায় এসেছেন, ভক্তরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এই দিনের জন্য। অন্যান্য বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য বাউল ও সাধু আখড়াবাড়িতে আসলেও রমজানের কারণে এবার ভক্তবৃন্দ কম বলে তারা জানান।

আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ, এরপর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে শেষ হবে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা। পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার ভক্তদের উপস্থিতি কিছুটা কম হতে পারে।

কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী।’

জেলা প্রশাসক মো: ইকবাল হোসেন জানান, মাহে রমজানের কারণে এবার উৎসব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দুপুরে আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হবে, আর সাধুসঙ্গের সব ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করবেন সাধু-ভক্তরা, প্রশাসন শুধু তদারকি করবে।

তিনি সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন সম্পন্ন হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।