জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষেরা পুরনো ফর্মুলার তত্ত্বাবধায়ক সরকার না, নতুন ফর্মুলায় জুলাই সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেখতে চায়।’
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বৃষ্টিস্নাত রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
গণভোটের রায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশ ইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ১১ দল। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান।
সমাবেশে এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা যখন এখানে বৃষ্টিতে ভিজছে, ঠিক সেই সময়টাতে তিস্তা নদীতে বর্ষার ধারা নেমেছে। গতকাল তিস্তা নদী পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম, শত শত বাড়িঘর তিস্তার স্রোতে নদীতে হারিয়ে যাচ্ছে, বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদীর পাড় ভেঙে গিয়ে মানুষেরা নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। ঠিক সেই সময়টাতে আমরা সরকারের কাছে বলতে চাই, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে আমার রংপুরের তিস্তার মানুষেরা বাড়িহারা হবে, ফসলহারা হবে, নিঃস্ব হবে—সেটা আর দেখতে চাই না। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে একটা কথা বলতে চাই, ভোটের কিন্তু দুই দিনও পার হয় নাই। জনগণ গণভোটকে ভুলে যায় নাই। জনগণ রাষ্ট্রটাকে পরিবর্তন করার জন্য, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। অতএব জনগণকে ফাঁকি দিয়ে গণভোট থেকে পিছিয়ে আসা যাবে না। যদি গণভোট বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো ওই হাসিনার রাষ্ট্রকাঠামোতে ফিরে যাবে। বাংলাদেশের যে মানুষেরা গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে, তারা আর হাসিনার শাসনকাঠামো দেখতে চায় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যখন নতুন কাঠামোর কথা আমরা বলি, সংবিধানের প্রসঙ্গ আসে। সম্প্রতি সংবিধান নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত থেকে একটি রায় এসেছে। ত্রয়োদশ সংশোধনের যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেই সরকারটা ফিরে এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশের জনগণ সেই বারো তারিখে এই রায় দিয়েছে। নতুন করে কোর্টের মধ্য দিয়ে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সেটা পুরনো ফর্মুলার তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বাংলাদেশের মানুষেরা এই রায়ের প্রতি ইতিবাচক। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষেরা পুরনো ফর্মুলার তত্ত্বাবধায়ক সরকার না, নতুন ফর্মুলায় জুলাই সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেখতে চায়।’
আখতার বলেন, ‘আজকে যখন আমরা এখানে সমাবেশ করছি, তখনও লালমনিরহাটে পুশ ইন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ওরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর চেষ্টা করছে। আমরা রংপুরের মানুষেরা বলতে চাই, রংপুর নিয়ে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, এই রংপুরের মানুষের বুকে এক ফোঁটা রক্ত থাকা পর্যন্ত অন্য কোনো বিদেশী দাবিদার রংপুরকে দখল করার সাহসও করতে পারবে না।’
এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথিরা বক্তব্য রাখেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলী আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর পরই শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। মঞ্চ থেকে আহ্বান করা হয় মাঠে থেকে যাওয়ার। বৃষ্টিতে ভিজেই ৩ ঘণ্টা মাঠে থাকেন নেতাকর্মীরা। রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। বৃষ্টির কারণে সমাবেশে বিঘ্ন হলেও মাঠ ছাড়েননি নেতাকর্মীরা।



