রাজশাহী বিভাগের ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সারি সারি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন চালকরা। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় এরইমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যেসব স্টেশনে তেল রয়েছে, সেগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে সীমিত পরিমাণে।
অনেকে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় রাজশাহীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদা। এতে করে নগরীর বিভিন্ন পেট্র্ল পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সঙ্কটের আশঙ্কায় অনেকেই আগে থেকেই পেট্রল ও অকটেন মজুত করতে পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন। তবে চাহিদা বাড়লেও এখনো স্বাভাবিক রয়েছে দাম।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় ফিলিং স্টেশন রয়েছে মোট ২৭৯টি। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই তেল সঙ্কটের বিষয়টি সামনে আসে। ওই দিন নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বাইকারদের চাহিদামতো তেল দেয়নি। কোনো কোনো স্টেশনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা এবং কোথাও ৫০০ টাকা পর্যন্ত তেল দেয়া হয়। এছাড়া শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেও রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
শুক্রবার সকালে নগরীর নয়ান ফিলিং স্টেশনে কথা হয় বাইকার টনির সাথে। তিনি জানান, প্রতিদিনই তাকে বাইক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি বাইকের ট্যাংকিতে চাহিদা অনুযায়ী তেল নিতে পারেননি। তবে শুধু টনি নয়, তার মতো আরো অনেক বাইকার চাহিদা অনুযায়ী তেল নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, অ্যাজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে রাজশাহীর ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলো চাহিদামতো তেল বিক্রি করতে পারছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি ফিলিং স্টেশন তেল না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলোতে তেল রয়েছে, সেগুলোতে অল্প অল্প করে দেয়া হচ্ছে।’
তবে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি আব্দুল জলিল।



