চুয়াডাঙ্গা ও দামুড়হুদা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগর গ্রামের মরহুম মোজাহারের ছেলে শাহাদাত (৩০) দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে তাকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট)। এমতাবস্থায় তার স্ত্রী কিডনি দিতে রাজি হলেও অর্থের অভাবে থমকে আছে শাহাদতের চিকিৎসা।
কিছুদিন আগেও সুস্থ শরীরে ভ্যান চালিয়ে সংসারের চাকা সচল রেখেছিলেন তিনি, কিন্তু আজ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সাথে প্রতিদিন লড়াই করছেন। কঠোর পরিশ্রমে দুই কন্যা সন্তানের মুখে হাসি ফোটানো সেই বাবাটির চোখে এখন শুধুই অসহায়ত্ব আর বাঁচার আকুতি।
শাহাদাত বর্তমানে প্রায় আট-নয় মাস ধরে শয্যাশায়ী রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় একাধিকবার ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা ও নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে গিয়ে তার সব সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন আর অবলম্বন বলতেই তার আর কিছু নেই।
চিকিৎসকদের মতে, শাহাদাতকে বাচানোর একমাত্র উপায় হলো কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট)। এ অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন প্রায় ছয় লাখ টাকা। কিন্তু দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থের জোগান দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, শাহাদাতের স্ত্রী দীপা আক্তার স্বেচ্ছায় নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত। স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি অঙ্গ দিতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। তবে নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, অপারেশনের প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় সেই আত্মত্যাগও যেন আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাব বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে শাহাদাতের জীবন রক্ষার পথে।
স্বামীর জীবন বাঁচাতে দীপা আক্তার এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
শাহাদাত বাঁচতে চায়, দীপা চায় তার স্বামীকে বাঁচাতে। আর দু’টি নিষ্পাপ শিশু চায় তাদের বাবা যেন বেঁচে থাকা।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বাস্তবতা হলো, শাহাদাতের হাতে সময় খুবই অল্প। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেরি হলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে এবং সময়ের সাথে সাথে কমে আসবে তার বাঁচার সম্ভাবনা।
তাই প্রশ্ন থেকেই যায়,অর্থের অভাবে কি থেমে যাবে শাহাদাতের জীবন? এতিম হয়ে যাবে কি দু’টি নিষ্পাপ শিশু? কিডনি দিতে প্রস্তুত থেকেও কি স্বামীকে বাচাতে পারবেন না দীপা আক্তার?
এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সকল সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সামান্য আর্থিক সহায়তা ও সহানুভূতিই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারকে স্বাভাবিক জীবন, বাঁচাতে পারে একটি তরতাজা প্রাণ।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।
শাহাদাতের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য সকলের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন তার স্ত্রী দীপা আক্তার।
যোগাযোগ:
বিকাশ / নগদ (ব্যক্তিগত): ০১৮৩৫-৮৫৪৫৩৩



