আমতলীতে তালগাছ নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

‘আমার বাবাকে সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে জান্নাতি পিটিয়ে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। আমি বাবাকে মারধরের কারণ জানতে সাইদুল মৃধার বাড়ি গেলে আমাকেও মারধর করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তি দাবি করছি।’

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Amtali
তালগাছ নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবা-মা ও মেয়ে
তালগাছ নিয়ে দ্বন্দ্বে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বাবা-মা ও মেয়ে |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

বরগুনার আমতলী উপজেলার চলাভাঙ্গা গ্রামে তালগাছ নিয়ে দ্বন্দ্বে স্থানীয় সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে জান্নাতি আতাহার হাওলাদার নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার চলাভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ রাতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

আগামীকাল শুক্রবার (১৩ মার্চ) নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো: সাইদুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার চলাভাঙ্গা গ্রামের সাইদুল মৃধা ও আতাহার হাওলাদারের মধ্যে একটি তালগাছ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই তালগাছের রস সংগ্রহ করতে আতাহার হাওলাদার গাছ প্রস্তুত করেন। ওইদিন বিকেলে সাইদুল মৃধা ওই গাছে বাঁশের আড় দিয়ে গাছের মুছি কাটেন। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায় সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা ও মেয়ে জান্নাতি বৃদ্ধ আতাহার হাওলাদারকে পিটিয়ে আহত করেন। তাদের মারধরে বৃদ্ধ আতাহার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: মহুয়া আক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পরপরই সাইদুল মৃধা ও তার পরিবারের লোকজন আত্মগোপনে চলে যান।

নিহতের ছেলে আলানুর বলেন, ‘আমার বাবাকে সাইদুল মৃধা, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও মেয়ে জান্নাতি পিটিয়ে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। আমি বাবাকে মারধরের কারণ জানতে সাইদুল মৃধার বাড়ি গেলে আমাকেও মারধর করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে শাস্তি দাবি করছি।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মহুয়া আক্তার বলেন, আতাহার হাওলাদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মো: সাইদুর রহমান বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। নিহতের পরিবার মামলা করলে মামলা নেয়া হবে।’