যশোরে ঘুষের টাকাসহ দুদকের হাতে শিক্ষা কর্মকর্তা আটক

ভুক্তভোগী মো: নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বুধবার দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
যশোরে ঘুষের টাকাসহ আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার
যশোরে ঘুষের টাকাসহ আটক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার |নয়া দিগন্ত

যশোরে ঘুষের এক লাখ ২০ হাজার টাকাসহ দুদকের হাতে আটক হয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

দুদক জানিয়েছে, মামলা করে আটক শিক্ষা কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ঝিকরগাছার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন শিরিনা আক্তার। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট মারা যান তিনি। মারা যাওয়ার পর শিক্ষিকার অবসরকালীন আজীবন পেনশন পান তার স্বামী। সেই পেনশনের জন্য গত বছরের ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন স্বামী স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুন্নবী।

আবেদনের পর থেকেই নুরুন্নবীকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক আশরাফুল আলম দফায় দফায় হয়রানি করতে থাকেন। বিভিন্ন সময় জেলা কর্মকর্তার অফিসে ধর্না দিয়েও তিনি স্ত্রীর পেনশনের ফাইলে স্বাক্ষর করাতে পারেননি। একপর্যায়ে আশরাফুল আলম নুরুন্নবীর কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি দুদক যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে অভিযোগ দেন।

অভিযোগের পরে বুধবার বিকেলে ঘুষের টাকাসহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান নুরুন্নবী। কার্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার হাতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপর সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। অভিযানে হাতেনাতে টাকাসহ শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

অভিযানে যশোর দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: সালাহউদ্দিনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুন্নবী উপস্থিত ছিলেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষক নুরুন্নবী বলেন, ‘মৃত স্ত্রীর পেনশনের ফাইল স্বাক্ষর করার জন্য অসংখ্যবার জেলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসেছি। কিন্তু তিনি স্বাক্ষর করেননি। তিনি আমাকে মানসিকভাবে হেনস্তা করেছেন। একপর্যায়ে এক লাখ ২০ হাজার ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেয়াতে তিনি আমাকে শাস্তি স্বরূপ ঝিকরগাছার একটি স্কুল থেকে সদর উপজেলার বসুন্দিয়া খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে নানাভাবে হেনস্তা করছিলেন। তার কাছ থেকে মানসিক হেনস্তা থেকে রেহাই পেতে তার দফতরে তাকে পা জড়িয়ে ধরলেও তিনি আমাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন। উপায়ন্ত না পেয়ে তার দাবিকৃত ঘুষের টাকাসহ আজ (বুধবার) তার দফতরে আসি। এ সময় দুদক তাকে আটক করে।’

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: আল-আমিন জানান, ভুক্তভোগী মো: নুরুন্নবীর অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদকের প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়। এরপর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বুধবার দুদকের একটি টিম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ প্রদানের পর দুদক সদস্যরা ঘুষের টাকাসহ তাকে হাতেনাতে আটক করেন। এ ঘটনায় দুদক যশোর কার্যালয়ে মামলার পর আটক কর্মকর্তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আটকের খবরে শিক্ষকরা দুদক কার্যালয়ে হাজির হয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। তারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।