রাঙ্গামাটির লংগদুর বৃহত্তর মাইনীমুখ বাজারে জেলা পরিষদের নির্মিত দোতলা মার্কেট ভবন ভেঙে পড়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, প্লাস্টার খসে পড়া এবং ছাদের অংশ ভেঙে যাওয়ার মতো দৃশ্যমান ক্ষতির মধ্যেই ভবনটির তৃতীয় তলায় সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক স্থানে ছাদের অংশ ভেঙে পড়ায় নিচ থেকে তাকালে আকাশ দেখা যায়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও কোনো ধরনের স্থায়ী মেরামত বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়েই তৃতীয় তলায় কমিউনিটি ক্লাব নির্মাণের জন্য কাজ চলছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাইনীমুখ বাজারের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন নির্বাচিত হওয়ার পর ভবনটি নিয়ে আলোচনা উঠলে, সেসময় সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনো প্রকার সংস্কার বা নতুন কাজ করা যাবে না। এতে ব্যবসায়ীদের জীবন নাশের মতো ঘটনা তৈরি হতে পারে। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর অদৃশ্য কোনো শক্তির সাহায্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান স্থানীয় ও ব্যবসায়ী সমিতির একাধিক সদস্য।
মাইনীমুখ বাজার কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানজির হোসাইন বলেন, ‘ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা ব্যবসায়ীদের নিরাপদে থাকতে সতর্ক করেছি। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন অবস্থায় কারা বা কিভাবে তৃতীয় তলায় আবার কাজ শুরু করেছে, তা আমাদের জানা নেই। মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত এই কাজ বন্ধ করে ভবনটি ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’
সদ্য নির্বাচিত বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ‘ভবনটি তৈরি করার সময়ে অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল, যা বর্তমান সময়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। এছাড়াও ভবনটির দ্বিতীয়-তৃতীয় তলার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও জীর্ণ-শীর্ণ। কাজেই কে বা কারা কাজ করছে, আমরা জানি না। আমরা সরকারসহ প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি, যাতে কাজটি করার অনুমতি না দেয়া হয়।’
এ বিষয়ে বাজার কমিটির সভাপতি কাশেম মেম্বার বলেন, ‘আমি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার এরশাদ বলেছেন, ওপরের তলায় কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। তাই অনুমতি দিয়েছি। তবে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার দায় কে নেবে, এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।’
ভবনটির তৃতীয় তলার কাজের বাজেট ও প্রকল্প সম্পর্কে জানতে ঠিকাদার মনির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এটি জেলা পরিষদের বরাদ্দের কাজ। আমি ঠিকাদার হিসেবে কাজ পেয়েছি এবং তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জেলা পরিষদের সদস্য মিনহাজ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।’
এদিকে বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ বন্ধ না করা হলে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন। তাদের দাবি, রাঙ্গামাটির অন্যতম বড় এই বাজারে প্রতি হাট-বাজারে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।



