ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার (বিডি) লিমিটেডের শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস (২৮) হত্যাকাণ্ডের মামলায় আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতার আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ময়মনসিংহ পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম মো: ইয়াছিন আরাফাত (২৫)। তিনি ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ির কড়ইতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা ও গাজী মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় ১৮ মাস ধরে ভালুকার কাশর এলাকায় শেখবাড়ি মসজিদে ইমামতি এবং মদিনা তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে অন্যদের সাথে ইয়াছিন আরাফাতও সরাসরি নেতৃত্ব দেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রায় ১২ দিন ঢাকার ডেমরা থানাধীন সারুলিয়া এলাকায় বিভিন্ন মাদরাসায় অবস্থান করেন। আত্মগোপনের অংশ হিসেবে তিনি ‘সুফফা’ নামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতার জন্য যোগ দেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
তিনি আরো জানান, ঘটনার দিন কারখানার গেটে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও অন্য গ্রেফতার আসামিদের জবানবন্দির সাথে ইয়াছিন আরাফাতের সম্পৃক্ততা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার ডিএমপির সহযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, দিপু হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ২১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। নয় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ১৮ আসামিকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই সময় দিপু চন্দ্র দাস পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার ভেতরে অবস্থান করছিলেন। কারখানার সামনে লোকজন জড়ো হলে তাকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কারখানা থেকে বের হলে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে উত্তেজিত জনতা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
নিহত দিপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি প্রায় দু’বছর ধরে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানায় কর্মরত ছিলেন।



