চার আসনে জয়, তবুও মন্ত্রিসভায় শূন্য গাজীপুর

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন, গাজীপুরে আপনার শৈশব কেটেছে, তাই গাজীপুরবাসীর কাছে আপনার হক আছে। নির্বাচনে গাজীপুরবাসী আপনার হক আদায় করেছে। কিন্তু, আপনার কাছে আমাদের কোনো হক নেই? আমরা কেন আপনার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলাম না? আমরা আমাদের হক চাই।’

মো: আজিজুল হক, গাজীপুর মহানগর

Location :

Gazipur
গাজীপুরবাসী পেলেন না কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী
গাজীপুরবাসী পেলেন না কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী |নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুর। মহান স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গাজীপুরবাসীর রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। শিল্প, শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক গুরুত্বের দিক থেকেও জেলা হিসেবে গাজীপুরের অবস্থান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

গাজীপুর জেলায় অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও কৌশলগত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা, বাংলাদেশ টাকশাল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বিশ্ব ইজতেমা ময়দান, তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অ্যাকাডেমি ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এছাড়াও রয়েছে হাজার হাজার শিল্পকারখানা, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রায় প্রতিটি মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের পাঁচটি আসন থেকে অন্তত একজনকে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হতো। কিন্তু এবারের মন্ত্রিপরিষদ গঠনে গাজীপুর জেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য স্থান না পাওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হলেও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি কেউই। কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচিত এ কে এম ফজলুল হক মিলনের নাম মন্ত্রিসভায় থাকতে পারে বলে আলোচনা চলছিল। একইভাবে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর ব্যক্তিগত সুনাম ও বিতর্কহীন ভাবমূর্তির কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, তিনি অন্তত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় মিলন বা ডা: বাচ্চু কাউকেই না দেখে হতাশ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে ধানের শীষের জয় হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের অনাগ্রহের কারণে প্রত্যাশিত ব্যবধানে বিজয় অর্জিত হয়নি। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গাজীপুরের কিছু বিএনপি নেতার ঝুট ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

এই অবস্থায় গাজীপুরের সাংবাদিক ও নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গাজীপুরের সাংবাদিক আসাদুজ্জামান আসাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছিলেন, গাজীপুরে আপনার শৈশব কেটেছে, তাই গাজীপুরবাসীর কাছে আপনার হক আছে। নির্বাচনে গাজীপুরবাসী আপনার হক আদায় করেছে। কিন্তু, আপনার কাছে আমাদের কোনো হক নেই? আমরা কেন আপনার মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেলাম না? আমরা আমাদের হক চাই।’

অন্যদিকে সাংবাদিক হাসিব কান মজার ছলে লিখেছেন, ‘মাটি কাটাবিষয়ক মন্ত্রণালয় খুলে গাজীপুরে মাটিকাটা মন্ত্রী দেয়ার দাবি জানাই।’ তিনি মূলত বিএনপি নেতাদের দ্বারা সরকারি ও সাধারণ মানুষের জমি কেটে নেয়ার বিষয়টিকে ইঙ্গিত করেছেন।

সচেতন মহল মনে করছেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে গাজীপুরের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় অন্তত একজন প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন ছিল। অনেকে আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে গাজীপুর থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। অন্যদিকে, একাংশের মত, গাজীপুরকে এ ক্ষেত্রে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, শিল্প ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জেলার প্রতিনিধিত্ব না থাকায় গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মাঝে এক ধরনের অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।