বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সেজন্য ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে হলে জামায়াতে ভোট দিন। আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে ইনশাআল্লাহ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি ইনসাফ কায়েম করে দেশকে সামনে এগিয়ে যাব।’
তিনি বলেন, ‘বিচার ব্যবস্থায় ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে কার্যকর ও যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।’
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে সরকারি আকবর আলী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আামির বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে অনিয়ম, দুর্নীতি, চুরি ও চাঁদাবাজির কোনো প্রশ্রয় দেয়া হবে না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে। আমরা দুর্নীতি করব না, কাউকে করতেও দেবো না।’ এ সময় তিনি জনগণকে দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের বয়কট করার আহ্বান জানান।
নারীদের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের ঘরে ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং নারীদের উন্নয়নে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। যারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করে, তারাই প্রকৃতপক্ষে নারীদের ক্ষতি করে।’
গণভোট প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিলে ওসমান হাদির হত্যাসহ জুলাইয়ের শহীদদের বিচার সম্ভব হবে। যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেবে, তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।’ তিনি এবারের নির্বাচনে ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান।
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘একটি দল পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং জামায়াতের নারী কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দুই দিন আগে বড়হর ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে আমাদের নারী কর্মীদের মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল এবং তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘যাদের স্বভাব ছিনতাই, তারা আচরণ পরিবর্তন করে নাই। ভয়ভীতি দেখানো বন্ধ করুন। জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুললে পালাবার পথ পাবেন না।’ তিনি প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘উল্লাপাড়ার জনগণ আমাকে দেশ সেবার সুযোগ দিলে আপনাদের সাথে নিয়ে উল্লাপাড়ার সব সমস্যার সমাধান করে একটি আধুনিক, মানবিক ও চাঁদাবাজমুক্ত উল্লাপাড়া গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।’
পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. হেলাল উদ্দিন, জেলা জামায়তের আমির মাওলানা শাহিনুর আলম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় অফিস সম্পাদক নুর মোহাম্মদ মন্ডল, সলঙ্গা থানা জামায়াতের আমির রাশেদুল ইসলাম শহিদ, উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উল্লাপাড়া উপজেলার আমির মাওলানা শামীম আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংগঠক মোশাররফ আদনান, সিরাজগঞ্জ জেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান উল্লাহ সোয়াইব, সিরাজগঞ্জ রোড শিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ, উল্লাপাড়া কামিল মাদরাসার সভাপতি আশিকুর রহমান, উপজেলা শিবিরের সভাপতি হাফেজ জাকারিয়া হোসাইন, সলঙ্গা থানা শিবিরের সভাপতি মহসিন আলম প্রমুখ।



