ফরিদপুরের ভাঙ্গায় গ্রামবাসীর বিরোধকে কেন্দ্র করে কিশোর সুমন শেখকে (১৬) হত্যার ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুন) রাতে নিহত কিশোরের বাবা মো: মিলন শেখ এ মামলা করেন।
মামলায় আসামিরা হলেন সজিব মাতুব্বর, নিয়ামত মাতুব্বর, ছানোয়ার সরদার, এনায়েত সরদার, ফয়সাল, ইব্রাহিম মাতুব্বর, ইয়াছিন মোল্যা, রুমান মাতুব্বর, ইয়াকুব তালুকদারসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভাঙ্গা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্বের একটি মারামারির ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হলেও অভিযুক্তরা তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিল এবং প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজছিল।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সুমনের ফাস্টফুডের দোকানের সামনে কয়েকজন যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সুমনসহ স্থানীয় কয়েকজন ওই যুবকদের উদ্ধারে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, প্রধান আসামি সজিব মাতুব্বর সুমনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। এতে দু’টি গুলি সুমনের গলার বাম পাশে ও বাম কানের নিচে বিদ্ধ হলে সে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। একই সময় এনায়েত সরদারের ছোড়া গুলিতে ফাইজুর রহমান নামে আরেক যুবক আহত হন। এছাড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে আরো কয়েকজন আহত হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে সুমনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখানে জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহবাগ থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে।
নিহতের বাবা মিলন দাবি করেন, ছেলের দাফন সম্পন্ন করে পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা শেষে তিনি ভাঙ্গা থানায় এজাহার দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, অভিযোগ নেয়া হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। আশা করছি, খুব দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করতে সক্ষম হব।’



