আর কাউকে এই ভোলার মাটিতে দস্যু হতে দিয়েন না : ব্যারিস্টার পার্থ

‘৩০ হাজার টাকার জমি ৩০ লাখ টাকা, ১০ হাজার টাকার ইট ২০ হাজার টাকা, ৮০ হাজার টাকার রড এক লাখ টাকা এই ধরনের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে, সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। তাহলে ভোলার উন্নয়ন প্রত্যাশিতর চেয়েও বেশি হবে। এর ফলে আমাদের বেকার সমস্যা দূর হবে।’

ভোলা প্রতিনিধি

Location :

Bhola
বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ |নয়া দিগন্ত

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘দয়া করে আর কাউকে এই ভোলার মাটিতে দস্যু হতে দিয়েন না। গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে যে পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে ভোলার ব্যবসায়ী সমাজ পার করেছেন তা আমার জানা আছে। আওয়ামী লীগের পেশিশক্তির কাছে আপনারা মাথা নত করেছেন। একজন ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেদিন কেউ তার পাশে থাকেননি।’

তিনি বলেন, ‘আজকের মতবিনিময় সভায় আপনারা সবাই একত্রিত হয়েছেন। সেদিন যদি অন্যের ক্ষতিতে আপনারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করতেন, মিডিয়ার সামনে কথা বলতেন তাহলে এই দস্যুরা ভোলা থেকে পালিয়ে যেত। সেদিন কেন আপনারা আলাদা আলাদা থেকেছেন, কাকে ভয় পেয়েছেন। আপনারা ব্যবসায়ী সমাজ সব কিছু বাড়তে দিয়েছেন। এই কারণে আমাদের মতো রাজনীতিবীদরা এতটা দস্যু হয়ে উঠতে পারি।’

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ভোলার একটি হোটেলে ব্যবসায়ী সমাজের সাথে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘একটা কথা আজ আপনাদের সামনে বলে যাই, আমার দ্বারা আপনাদের যদি কোনো ক্ষতি হয়, সেদিন আজকের মতো সঙ্ঘবদ্ধভাবে আপনারা আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন। প্রতিবাদ না করলে কখনো প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। সেদিন যদি সবাই মিলে প্রতিবাদ করে বলতেন, আমরা কোনো অন্যায় হতে দেবো না, তাহলে ভোলায় কোরো অন্যায় হতো না।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি তাহলে ভোলায় কোনো চাঁদাবাজ থাকতে দেবো না। আমি নিজে কোনো অন্যায় করি না, আর কাউকে করতেও দেবো না। আল্লাহর রহমত ও আপনাদের ভালবাসা পেলে এই ভোলাকে একমাত্র আমিই আধুনিকায়ন করতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা ছোট ছোট কমিটি করবেন, সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ রাখবেন। কারণ মাঠের অনেক খবরই আমাদের কাছে আসে না। কোনো ধরনের অত্যাচার যেন ভোলার ব্যাবসায়ীদের সাথে না হয়, আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

পার্থ বলেন, ‘ভোলাকে ডেভেলপমেন্ট করতে হলে, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, ইপিজেট করতে হলে আন্তর্জাতিক মানের ব্যাবসায়ীদের ভোলায় নিয়ে আসতে হবে। সকল সিন্ডিকেট প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে। ভোলা-বরিশালের ১৭ হাজার কোটি টাকার সেতু করতে হলে সবার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘৩০ হাজার টাকার জমি ৩০ লাখ টাকা, ১০ হাজার টাকার ইট ২০ হাজার টাকা, ৮০ হাজার টাকার রড এক লাখ টাকা এই ধরনের সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে, সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। তাহলে ভোলার উন্নয়ন প্রত্যাশিতর চেয়েও বেশি হবে। এর ফলে আমাদের বেকার সমস্যা দূর হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, দলমত নির্বিশেষে সবাই এক থাকলে আগামী ৫ বছর ভোলার মানসম্মত উন্নয়ন হবে। মেডিক্যাল কলেজ হবে ডাক্তার থাকবে না, বিশ্ববিদ্যালয় হবে শিক্ষক থাকবে না এরকম উন্নয়ন আমরা চাই না। আগামী ১২ তারিখ আপনার আমার পাশে থাকুন, আমার মার্কা গরুর গাড়িতে ভোট দিন। ভোলার উন্নয়নে পাশে থাকুন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো: রাইসুল আলম, সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কায়েদ, বিসিক শিল্পনগরীর সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন খান প্রমুখ।