বেনাপোল বন্দরে নিখোঁজ ১৯ প্যাকেজ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার

গত ১২ মার্চ ১০৮ প্যাকেজে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়। পরে ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা ১৯ প্যাকেজ নিখোঁজ পান।

রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)
বেনাপোল স্থলবন্দর
বেনাপোল স্থলবন্দর |সংগৃহীত

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে নিখোঁজ হওয়া ১৯ প্যাকেজ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শেডের ভেতরে পুরোনো নিলামের মালামালের আড়ালে থেকে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১২ মার্চ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করা হয়। আমদানি নথিতে পণ্য হিসেবে বেকিং পাউডারের ঘোষণা থাকলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮ প্যাকেজে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম, লোশনসহ বিভিন্ন প্রসাধনী জব্দ করা হয়। পরে চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডের জিম্মায় রাখা হয়।

গত ২ জুন পুনরায় ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান, ১০৮ প্যাকেজের মধ্যে ১৯ প্যাকেজ নেই। পরে এ ঘটনায় প্রতারণার মামলা করা হয় ও তদন্ত শুরু হয়।

বন্দর সূত্র বলছে, ঈদুল আজহার আগে প্যাকেজগুলো শেডের ভেতর থেকে গোপনে সরিয়ে নেয়ার উদ্দেশে পুরোনো নিলামের মালামালের সাথে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে সুযোগ না পাওয়ায় সেগুলো বাইরে নেয়া সম্ভব হয়নি। সোমবার অন্য একটি পণ্যচালানের ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা লুকিয়ে রাখা প্যাকেজগুলোর সন্ধান পান।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা চালানটির আমদানিকারক যশোরের সাফা ইমপেক্স। সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে প্রায় ছয় কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য আমদানি এবং প্রায় দুই কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া ১৯ প্যাকেজ আগের জব্দ করা চালানের অংশ। শেডের ভেতরে নিলাম পণ্যের মধ্যে চাপা পড়া ছিল। এখানে কারো বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া পণ্য গণনা ও যাচাইয়ের কাজ চলছে। এরপর প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’