কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি, সিন্ডিকেটের কবলে সারের বাজার

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সঙ্কট নেই।’ তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সঙ্কট না থাকে তাহলে কেন কৃষককে দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে?

আসাদুল ইসলাম সবুজ, লালমনিরহাট

Location :

Lalmonirhat
সরকারি বরাদ্দের সার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে
সরকারি বরাদ্দের সার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে |নয়া দিগন্ত

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় সারের বাজার এখন শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারদের গুদামে মিলছে না; অথচ খুচরা বাজারে সেই সারই বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে একদিকে কৃষকদের জিম্মি করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভেজাল সারের রমরমা কারবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।

বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, রবি মৌসুমের চাষাবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। আলু ও অন্যান্য ফসল রোপণের জন্য প্রয়োজনীয় টিএসপি সার না পেয়ে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। বিসিআইসি অনুমোদিত ডিলারদের কাছে গেলে তারা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘সার নেই’। অথচ পাশের খুচরা দোকানগুলোতে সেই টিএসপি সারই দুই হাজার ৪০০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা, কোথাও কোথাও তিন হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

ভেলাবাড়ি এলাকার কৃষক মুকুল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আলু রোপণের সময় টিএসপি সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিন হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছি। ডিলাররা গুদাম থেকে সার বাইরে বিক্রি করে দেয়, আর আমাদের বলে বরাদ্দ নেই।’

কৃষকদের অভিযোগের তীর উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকির দিকেও। নিয়ম অনুযায়ী উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া এবং সারের বাজার মনিটরিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ে না। অভিযোগ রয়েছে, তারা কেবল ডিলারদের রেজিস্টার খাতায় সই দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন। এতে সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ডিলাররা, গোপনে মজুদ সরিয়ে কালোবাজারে সার বিক্রি করছেন তারা।

কোনো কৃষক অনিয়মের অভিযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তারা দায় চাপান প্রশাসনের ওপর। তাদের দাবি, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছাড়া অভিযান চালানো সম্ভব নয়।’ প্রশাসনের এই রশি টানাটানির সুযোগে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। দীর্ঘ বিরতিতে দু-একটি নামমাত্র অভিযান পরিচালনা করা হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছোটখাটো খুচরা বিক্রেতাদের সামান্য জরিমানা করেই দায় সারছে প্রশাসন। কৃষকদের ভাষায়, এসব অভিযান ‘লোক দেখানো’ ছাড়া কিছুই নয়।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন বলেন, ‘বাজারে সারের কোনো সঙ্কট নেই।’

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সঙ্কট না থাকে তাহলে কেন কৃষককে দ্বিগুণ দামে সার কিনতে হচ্ছে? সার সঙ্কটের আড়ালে ভেজাল সারের কারবারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। নকল ও নিম্নমানের সার ব্যবহারে ফসলি জমি ও বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্য উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি।