ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসা ছাত্রীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর নুসরাত জাহান রাফির মায়ের আহাজারী আর বিলাপ করতে থাকেন।
তিনি বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। আদালত যে রায় দিয়েছে আমরা তাতে সন্তুষ্ট। আদালতে হত্যা কথা বলেছে, হত্যা করা হইছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। এখন শুধু আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন।’
তিনি বিলাপ করে বলতে থাকেন, ‘পুরা পৃথিবী হইছে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে, আত্মহত্যারে হত্যা বানাইছেরে, আজকে কোট তা প্রমাণ করে দিছে রে। আমার কোনো নিরাপত্তা নাইরে। আমার ছেলেদেরকে কিভাবে হুমকি ধামকি দিতেছে। বাড়িঘর আগুন জালাই দিব রে, কি হবে রে। আমরা নাকি নাটক সাজায় মামলা কইচ্ছি রে। মামলা কচ্ছি, কোনো অপরাধ হইছে নি রে ও সিরাজ্জারে হেতের লাগি আমার মেয়ে হারাইছি রে ও রাফি রে মারে ছাড়া সাতটা বছর কেমনে রইছেরে...।’
এভাবেই বিলাপ করতে করতে বাড়ির আকাশ বাতাস বারি করে তুলছেন নুসরাত জাহান রাফির মা।
এর আগে গতকাল রোববার থেকে ফেনী সহকারী পুলিশ সুপারের নির্দেশে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ নুসরাত জাহান রাফির সোনাগাজী পৌরসহরের বাড়িতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। পুরো বাড়ি নিরাপত্তা বলয় বেষ্টিত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে গণমাধ্যমের কর্মীদের আশা দেয়া এবং সাধারণ মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রায় ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর, সোনাগাজীর সাধারণ মানুষসহ এলাকাবাসী ঘোষিত রায়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অনেকে বলছেন, দীর্ঘ সময় বিচারের বাণী নীরবে কেঁদেছিল। আজ মহামান্য আপিল বিভাগের রায় যথাযথ হয়েছে। দোষীরা শাস্তি পেয়েছে আর নির্দোষেরা খালাস পেয়েছে।
নিম্ন আদালত যে রায় দিয়েছিল, সেটি আসামিদের প্রতি জুলুম করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত থেকে একটি রায়ের কারণে অনেকগুলো নিরপরাধ পরিবারের জীবন বিপন্নের পথে ছিল। আজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে আপিল বিভাগ আইনের শাসন নিশ্চিত করেছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল হাশিম বলেন, ‘নুসরাত আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় শোনার পর আইনশৃঙ্খলার কোনো ধরনের অবনতির ঘটনা ঘটেনি। আমরা এই এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রেখেছি।’



