খুলনার ডুমুরিয়ায় মারিয়া ইসলাম (২৬) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে বাবার বাড়ি খান জাহান আলী থানার মাক্তমডাঙ্গা গ্রামে মারিয়ার দাফন করা হয়।
এর আগে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শাহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গৃহবধূর বাবা মো: রবিউল ইসলাম ডুমুরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
নিহত গৃহবধূ শাহপুর গ্রামের আশিকুর রহমান রিংকুর স্ত্রী।
একাধিক এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর গ্রামের আখতার হোসেন ফকিরের ছেলে আশিকুর রহমান রিংকুর সাথে পাঁচ বছর আগে মারিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর-শাশুড়ি মারিয়াকে বিভিন্ন সময়ে মারপিট করতেন। সেইসাথে আশিকুর রহমানও অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করবে বলে মারিয়াকে তাড়ানোর উদ্দেশ্যে শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের কারণের মারিয়া প্রায়ই বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেন। রোববার দুপুরে শাশুড়ি আঞ্জুমান আরা বেগমের সাথে মারিয়ার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তার শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন। দায় এড়াতে তারা মারিয়ার ডায়রিয়া হয়েছে বলে প্রচার করেন।
মারিয়ার তিন বছরের মেয়ে রুহো জানায়, দুপুর বেলায় ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মাকে মারতেছে। তারপরে আমার দাদা ফ্যানের সাথে বাঁধি (বেঁধে) রাখতেছে।
নিহত মারিয়ার বাবা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে পাঁচ বছর হলো বিয়ে দিলেও এক বছর সংসার করেছে। তিন সপ্তাহ আগে মারিয়ার শ্বশুর তাকে মেরে চোখ ও আঙ্গুল ফাটিয়ে দিলে আমরা নিয়ে যাই। পরে ওর শাশুড়ি আবার হাতে-পায়ে ধরে নিয়ে আসে।’
তিনি বলেন, ‘আজ (রবিবার) দুপুরে শাশুড়ির সাথে ঝগড়া হলে তার শাশুড়ি ও শ্বশুর মিলে মারপিট করার পর আমার মেয়ে মারা যায়। ওই সময় মারিয়ার শ্বশুর আমাকে ফোনে জানায়, আপনার মেয়ের ডায়রিয়া হয়েছে তাড়াতাড়ি আসেন। এসে দেখি আমার মেয়ের লাশ পড়ে আছে। এটা পরিকল্পিত মার্ডার। আমি থানায় মামলা করব। রিংকু তার মামাতো বোনকে বিয়ে করবে বলে পরিবারের সবাই তাকে নির্যাতন করত। আমি মোটরসাইকেলসহ কয়েক লাখ টাকা যৌতুক দিয়েছি।’
ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, আমি ঘটনাস্থলে আসছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে রিংকু ও তার বাবা-মা যোগসাজশে মারিয়াকে হত্যা করেছে। মারিয়ার স্বামী রিংকু (৩৪) ও শ্বশুর আকতার হোসেনকে (৬৫) গ্রেফতার করা হয়েছে।



