বরিশালে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ে চলছে নানা অনিয়ম। অবসরে যাওয়ার পরও অন্তত পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারী বহাল তবিয়তে অফিস করছেন, সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন এবং কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে ভাড়াও পরিশোধ করছেন না। এমনকি এক কর্মকর্তা খোদ অফিস কক্ষেই বসবাস করছেন। বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা (টেকনিশিয়ান) শ্রী ওজা বাবু, অফিস সহকারী মোহাম্মদ সান্টু মিয়া, ড্রাইভার মো: হুমায়ুন কবির, টেকনিশিয়ান ফারুক হোসেন এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পিএ মোহাম্মদ মজিবুর রহমান অনেক আগেই পিআরএল শেষে অবসরে গেছেন। কিন্তু অবসরের পরও তারা অফিসের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সহকারী গবেষণা কর্মকর্তা শ্রী ওজা বাবু বলেন, ‘এই পদে পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় কেউ স্থায়ীভাবে থাকতে চান না। কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই অবসরের পরও কাজ করছি।’
অন্যদিকে পিএ মোহাম্মদ মজিবুর রহমান জানান, এক মাস আগে অবসরে গেছি। নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত জুন মাস পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তিনি বর্তমানে অফিসের একটি কক্ষ দখল করে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে।
অফিস সহকারী মোহাম্মদ সান্টু মিয়া জানান, এক বছর আগে অবসরে গেলেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এখনো কাজ করছেন। তিনি সরকারি কোয়ার্টারে বসবাস করছেন, তবে গত এক বছর ধরে কোনো ভাড়াও পরিশোধ করেননি।
সওজ বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী, প্রধান সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, অফিস ক্লার্ক এবং ল্যাবরেটরির তিনটি পদসহ মোট উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ১৩টি পদের মধ্যে অন্তত ছয়টি পদ ফাঁকা থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ভাউচার পদ্ধতি বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মচারীদের দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।
এদিকে, অবসরে যাওয়া ব্যক্তিরা কোয়ার্টার দখল করে থাকায় নতুন বা বর্তমান কর্মচারীরা সরকারি বাসস্থান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগও সীমিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: মাসুদ খান বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে অবসরপ্রাপ্তদের দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি কোয়ার্টারের ভাড়া না দেয়া বা অফিস কক্ষে বসবাসের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



