বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, স্বাধীনতার পর সন্ত্রাসবাদ, গুন্ডামি ও ফ্যাসিবাদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ যখন ভাতের ও ভোটের অধিকার নিয়ে রাস্তায় নেমেছে, ঠিক তখনই গুম-খুন হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর শহরের স্বাধীনতা অঙ্গনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশকে অর্জন করতে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনটি বিদেশী আধিপত্যবাদীর বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আল্লামা মামুনুল হক।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ২১৪ বছর এ দেশের মানুষ শাসনের নামে শোষিত হয়েছে। বৈষ্যমের শিকার হয়েছে। এ দেশের মানুষের অধিকার টুকুও কেড়ে নিয়েছে বিদেশী শাসকরা। ১৯০ বছর ইংরেজ-বিট্রিশদের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে। ১০০ বছর ভারতের দাদাবাবুদের জমিদারি প্রথা ও দিল্লীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। এরপর পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছে ২৪ বছর। এভাবে ২১৪ বছর লড়াই-সংগ্রাম করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাংলাদেশ একটি মানচিত্র পেয়েছে। একইসাথে পেয়েছে লাল সবুজের পতাকা।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের মানুষ ভেবেছিল আর কোনোদিন শোষিত হতে হবে না। কিন্তু সেই দৃশ্যের পরিবর্তন হয়নি। আগে বিদেশীদের মাধ্যমে শোষিত হয়েছে, এখন স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে দেশী মানুষ দ্বারা শোষিত হচ্ছে। শুধু শাসকের ধরন বদলেছে কিন্তু শোষণের ধরন পাল্টায়নি।
মাদারীপুর-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শারাফত হোসাইন, বাংলাদেশ জাময়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদের সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমদ, মাদারীপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাদারীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোখলেসুর রহমান, সাবেক নায়েবে আমির ড. কাজী আবুল বাসার, সেক্রেটারি হাফেজ এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের মাদারীপুর জেলা সভাপতি রিফাত হোসাইনসহ অনেকেই।



