ফেনী সরকারি কলেজের নিজস্ব মাঠ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংস্কারের নামে নিয়মিত অর্থ ব্যয় হলেও মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী হয়নি। ফলে শতবর্ষী এই কলেজের ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী খেলাধুলা করতে বাধ্য হচ্ছেন পাশের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজ মাঠ ও ক্যাম্পাস পরিচর্যার জন্য প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা বছরে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। বিগত তিন বছরে মাঠ সংস্কারের নামে ১৭ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। তবুও মাঠটি সারা বছরই কাঁদা ও ঘাসে ঢাকা পড়ে থাকে, যা খেলাধুলার জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী।
সূত্র জানায়, প্রতি বছর কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও অন্যান্য প্রতিযোগিতা অনুমতি নিয়ে পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজন করতে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরও মাঠ সংস্কারে লাখ লাখ টাকা খরচ হলেও মাঠটি ব্যবহারযোগ্য হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টি হলে মাঠে কাঁদাপানি জমে যায়। এমনকি হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে কলেজের ফুটবল টিম গঠনও করতে হয়েছে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল আজিজ বলেন, ‘মাঠটি সংস্কার না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। ফুটবল ও ক্রিকেট খেলোয়াড়রা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক।’
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল হালিম মানিক বলেন, ‘কলেজ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মাঠটি প্রায়ই পরিত্যক্ত থাকে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।’
শিক্ষার্থীরা দ্রুত মাঠ সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ‘বৃষ্টি হলে কিছুটা পানি জমে যায়, ফলে খেলাধুলা সম্ভব হয় না। তাছাড়া মাঠটি আকারে ছোট হওয়ায় ছাত্ররা পাইলট মাঠে খেলতে যায়। অধ্যক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’



