বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশটাকে আমরা ভালোবাসি। এই দেশের মানুষদেরকে আমরা ভালোবাসি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কেউ বলতে পারবেন না, আমরা কেউ অন্য ধর্মের কারো ওপরে আঘাত করেছি। সাবধান, আমাদের ওই ভাইবোনদের জীবন-সম্পদ-ইজ্জত নিয়ে যারা অতীতে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করেছেন, তাদেরকে বলি- ওই যুগ শেষ। নতুন বাংলাদেশে আর তা চলতে দেয়া যাবে না। অতীতের খুন-গুম-হত্যা-ধর্ষণের বস্তাপচা যেই রাজনীতি তারা চালু করেছিলো, ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ তার কবর রচনা হবে।
শুক্রবার রাতে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ৫ আগস্টের পর আমার মুখ থেকেই বলেছিলাম- আমাদের ওপর যারা অতীতে জুলুম করেছে, দল হিসেবে আমরা কারো ওপরে প্রতিশোধ নেবো না। ফরিদপুরে আমাদের নেতৃবৃন্দের দিকে মিথ্যা মামলা দায়েরও হয়েছে। আমরা তাদের দিকে গোলাপের পাপড়িও ছুড়ে মারিনি। আবার একথাও বলেছিলাম, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি আইনি প্রতিকার চায়, তাদের সাহায্য করবো। কিন্তু একজন নিরীহ ব্যক্তিকেও হয়রানি করা যাবে না। আমরা জাতির কাছে দেয়া আমাদের কথা রেখেছি।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। কারা হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে গিয়েছে, সেইটা এ দেশের মানুষ জানে।
তিনি বলেন, আমরা এই দেশকে আপন করে ফুলের বাগানের মতো সাজাতে চাই। আমরা জাতির যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিতে চাই না, তাদের হাতে সম্মানজনক কাজ তুলে দিতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে- গোটা বাংলাদেশকে শিল্পে পরিণত করা। পুরনো ধাঁচের কাজকর্ম থেকে বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে আসা।
এ সময় তিনি একই মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তাকে নিয়ে, বিএনপির প্রধানের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, মানুষ হিসেবে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রত্যাশী। যারাই আমার চরিত্রের ওপর আঘাত এনেছেন, আমাদের গুপ্ত বলেছেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহও যেনো তাদের ক্ষমা করে দেন।
এ সময় ফরিদপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফরিদপুরের মতো এমন জেলা ইতোমধ্যে অনেক বিভাগ হয়েছে, সিটি করপোরেশন হয়েছে, মেট্রোপলিটন হয়েছে, কিন্তু ফরিদপুর বিভাগ হয় নাই। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পাই আমরা ফরিদপুর নামেই বিভাগ করবো ইনশাআল্লাহ। ফরিদপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও গঠিত হবে। তিনি নদীর জীবন ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে ফরিদপুরের পাটশিল্পসহ কৃষিকে এগিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, আজকে জন্ম নেয়া শিশুর টাকা, রাস্তার পাশে বসে ভাই কাজ করে তারও টাকা মেরে তারা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ আমাদের সাহায্য দিলে যেভাবে বলছি সেভাবেই ফিরিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ। এই টাকা কোনো নেতানেত্রীর পকেটে ঢুকবে না, এই টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় তহবিলে। যেই জেলা যতো বেশি বঞ্চিত হয়েছে, আগে সেইখান থেকে উন্নয়ন শুরু হবে। কোনো মামু-খালুর টেলিফোন পরোয়া করবো না। কোথায় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি, কোথায় নেতানেত্রীর বাড়ি সেটি বিবেচনা করবো না। আমাদের বিবেচ্য বিষয় হবে ইনসাফের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সাজানো। কথা দিয়ে যাচ্ছি, ফরিদপুরের প্রতি আমরা বেইনসাফি করবো না।
জনসভায় জামায়াত আমির ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী, ফরিদপুর-৩ আসনের অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, ফরিদপুর-৪ আসনের মাওলানা সরোয়ার হোসেন, রাজবাড়ী-১ আসনের অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী-২ আসনের শাপলাকলির প্রার্থী জামিল হেজাজী, মাদারীপুর-৩ আসনের রফিকুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, রিকশা হোক আর পাল্লা হোক, চারটি আসনে আমরা সমানতালে লড়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। লিল্লাহি তাকবীর, ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
জনসভা উপলক্ষে সন্ধ্যার পর থেকে মিছিল সহকারে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জনসভায় যোগ দেন। ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো: বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীগণ বক্তব্য দেন। এর আগে বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডা: শফিকুর রহমান।



