নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে নির্বাচনে থেকে গেলেন বিএনপির বিদ্রোহীরা

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই সঙ্কট নির্বাচনী মাঠে দলের অবস্থানকে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

কামাল উদ্দিন সুমন, নারায়ণগঞ্জ

Location :

Narayanganj

মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনেও নির্বাচনে থেকে গেলেন নারায়ণগঞ্জ ৫টি আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। এর মধ্যে ২ জন প্রার্থী দল থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন। তারাও রয়েছেন নির্বাচনে।

তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থেকে যাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বিএনপি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় এসব নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এতে করে আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতার বহিষ্কার অনিবার্য হয়ে উঠছে বলে আলোচনা চলছে।

মঙ্গলবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। তবে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের কেউই তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। ফলে দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে দেখছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দুলাল। দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি এখন সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে। দুলাল যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। এই দুই নেতা দীর্ঘদিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই এসব বিদ্রোহী নেতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। শাস্তির অংশ হিসেবে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ইতিমধ্যে শাহ আলম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই সঙ্কট নির্বাচনী মাঠে দলের অবস্থানকে আরো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।