ঢাকার আশুলিয়ায় কোরবানির পশুর হাটে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে দুই পাইকারের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একজন অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলিয়া পাড়াগ্রাম জনকল্যাণ সমিতির কোরবানির পশুর হাটে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শহিদুল্লাহ কায়সার ধামরাই উজেলার মঙ্গলবাড়ি এলাকার মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বেপারী জানায়, নিহত ব্যক্তি, তার ভাই ও ভাগ্নে ১৮টি গরু ও দু’টি ছাগল নিয়ে পাড়াগ্রাম অস্থায়ী হাটে আসেন। ১৪টি গরু বিক্রিও হয়ে যায়। অবশিষ্ট চারটি গরু বিক্রির জন্য ছিল। সেখানেই রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় নৈহাটি এলাকার জুলহাস নামের ব্যক্তি জোরপূর্বক গরু বাঁধতে যায়। এ নিয়ে শহীদুল্লাহ কায়সার ও তার ভাগ্নে রনির সাথে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ভাগ্নে রনির হাতে থাকা মোটরসাইকেলের হেলমেট দিয়ে জুলহাসকে আঘাত করে৷ পরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়।
এদিকে, মারামারির খবর পেয়ে হাট কমিটির লোকজন এগিয়ে এসে বিষয়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষ একটি হোটেলে বসেন। এসময় হঠাৎ রনির মামা শহিদুল্লাহ কায়সার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
পাড়াগ্রাম জনকল্যাণ সমিতি অস্থায়ী পশুর হাট কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান জানান, বিষয়টি শোনার পর পরই ঘটনাস্থলে তিনি আসেন এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। হঠাৎ রনির মামা অসুস্থবোধ করলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে শুনেছি তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি সত্যিই দু:খজনক।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, মারামারির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



