বরিশালে মুলাদীতে সয়াবিন বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বৈশাখের শেষ দিকে সয়াবিন কাটা শুরু করবেন কৃষক, তবে শেষ মুহূর্তে আবহাওয়া ভালো থাকলে সুষ্ঠুভাবে ঘরে তুলতে পারবেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
বাংলাদেশের চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইউনিয়নে সয়াবিনের প্রদর্শনী দেয়া হয়েছে। এ বছর উপজেলার নাজিরপুর, ছবিপুর, কৃষ্ণপুর, গাছুয়া, চরকালেখানসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে সয়াবিন চাষ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে। এর গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১ দশমিক ৮ টন।
মুলাদী উপজেলা উপ-সহকারী মো: শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় কম খরচে সয়াবিনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে মুলাদী উপজেলায় ৫১০ জন কৃষককে আট কেজি বীজ ও ২০ কেজি সার দেয়া হয়েছে। উপজেলায় রবি ২০২৫-২৬ মৌসুমে পাঁচ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। এক হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী কৃষকরা।’
মুলাদী সদর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: জাকির হোসেন বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর কৃষকদের মাঝে সয়াবিন চাষে আগ্রহ বেড়েছে। সয়াবিন বছরের সব সময় চাষ করা যায়। তবে রবি মৌসুমে ফলন বেশি হয়। যে কারণে রবি মৌসুমে সয়াবিনের আবাদ হয়ে থাকে। ৯৫ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়।’
কাজিরচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক আলাল হাওলাদার বলেন, ‘সয়াবিন চাষে খরচ কম। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম থাকে। জমি আবাদ করতেও ততটা খরচ লাগে না। ফলে ধান চাষের চেয়েও বেশি লাভবান হওয়া যায়। তাই কৃষকরা সয়াবিন চাষে আগ্রহী বেশি।’
বাহাদুরপুর গ্রামের সয়াবিন ক্ষেত পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মনিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো: হারুন অর রশিদ ও উপ-সহকারী অফিসার চিন্ময় মন্ডলসহ কৃষকবৃন্দ।
মুলাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম জানান, কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষকরা শুধু ধানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সব ধরনের ফসল উৎপাদন করেন।
তিনি আরো জানান, কৃষকদের কৃষি প্রদর্শনীর মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সয়াবিনের বাম্পার ফলন হবে।



