ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে নবীগঞ্জে সংঘর্ষে আহত পুলিশ সদস্যকে

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত নবীগঞ্জ থানার কনস্টেবল জোবাইবাদ উল্লাহ মুন্সীকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

Location :

Habiganj
সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত জনতা
সংঘর্ষের সময় উত্তেজিত জনতা |নয়া দিগন্ত

নবীগঞ্জের সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর আহত পুলিশ সদস্য মো: জোবাইবাদুল্লাহ মুন্সিকে মুমূর্ষ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট থেকে ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরো চারজন পুলিশ আহত হন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নবীগঞ্জ থানায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৭০ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি এই বিষয়ে পুলিশ এসল্ট মামলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শেষে স্থানীয় নতুন বাজার মোড়ে অনুষ্ঠিত পথসভায় নবীগঞ্জ উপজেলার জাসাসের সাবেক আহ্বায়ক রাসেদ মিয়া, ও পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিনের কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

এদিকে নবীগঞ্জে পুলিশ এসল্ট মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন, নবীগঞ্জ উপজেলা জাসাসের সাবেক আহ্বায়ক আনমনু গ্রামের রাসেদ মিয়া, যুবদলের নেতা জাসেদ মিয়া, জনি মিয়া, নয়ন মিয়া, সাবের মিয়া, নাইম মিয়া, সোহাগ মিয়া, রিয়াদ মিয়া, কাজল মিয়া, মিলু মিয়া, নাজু মিয়া, ঝিনুক মিয়া, রাব্বি মিয়া, রাজাবাদ গ্রামের বিএনপি নেতা নুরুল আমীন, পারভেজ মিয়া, তুয়েল মিয়া, নজরুল মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, রুহুল আমীন, অয়ন মিয়া, সুধীন মিয়া ও জুবেদ মিয়া গং ৭০-৮০ জন।

হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছকে জড়িয়ে অশ্লীল মন্তেব্যের প্রতিবাদে নবীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃত্বে শহরের গাজীর টেকের মোড়ে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে বুধবার রাতে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, এসময় শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে, ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান পাট বন্ধ করে তাদের জান মাল রক্ষা করে।

এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গুরুতর আহত নবীগঞ্জ থানার কনস্টেবল জোবাইবাদ উল্লাহ মুন্সীকে প্রথমে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। ডাক্তার তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।

এই বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল হোসেন বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সহ আমাদের অধিকাংশ ফোর্স এসপি সাহেবের নির্দেশে বাহুবলে ছিলাম যা সারা দেশের মানুষ দেখছে, এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক আমাদের ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, এবং পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এর মধ্যে চারজনকে নবীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে সিলেটে নেয়া হলে তাকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এসল্ট মামলার ২২জনের নাম উল্লেখ করে ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে।’