মৌলভীবাজারে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন

মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে অবস্থিত ডানকান ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল টানা ৫২ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ফাঁড়ি বাগানসহ অন্তত ৩৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

Location :

Maulvibazar
মৌলভীবাজারে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন
মৌলভীবাজারে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর দাবিতে চা শ্রমিকদের মানববন্ধন |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের শমসেরনগরে অবস্থিত ডানকান ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল টানা ৫২ দিন ধরে বন্ধ থাকায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ফাঁড়ি বাগানসহ অন্তত ৩৫টি চা বাগানের লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চা বাগানগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা সঙ্কট ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। দ্রুত হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকেরা।

রোববার (১৭ মে) দুপুরে রাজনগর উপজেলার উদনা চা বাগানে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রামভজন গোয়ালার সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি, শ্রমিক নেতা সীতারাম বিন, মালিয়া বাউরী, আমির আলী, রেখা বাকতি ও সবিতা বোনার্জীসহ বিভিন্ন বাগানের শ্রমিক নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন চা শ্রমিকেরা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী পরিবারগুলো জরুরি চিকিৎসা, মাতৃসেবা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা অবিলম্বে হাসপাতালটি পুনরায় চালুর দাবি জানান।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ মার্চ শমসেরনগর চা বাগানের বাসিন্দা ঐশি রবিদাশ (১৩) ডানকান ক্যামেলিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ সময় ক্ষুব্ধ স্বজনরা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে পরদিন থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

চা বাগান সংশ্লিষ্টদের দাবি, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় বিভিন্ন বাগানের শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য দূরবর্তী হাসপাতাল ও ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ব্যয় ও যাতায়াতজনিত দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ শ্রমিকেরা। জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছে বলেও জানান তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত হাসপাতালটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে চিকিৎসাসেবা পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন। একই সাথে চা শ্রমিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।