রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৩ পদে কাজ করছেন ২৪ জন চিকিৎসক। অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অনিয়ম, চিকিৎসক সঙ্কট ও ওষুধ বিপণন প্রতিনিধিত্বের দৌরাত্ম্যে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত এবং রোগীদের বিড়ম্বনার অভিযোগ পাওয়া যায়।
রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য চিকিৎসার যন্ত্রপাতিসহ সব কিছুর যোগান দিলেও দায়িত্বরত চিকিৎকদের উদাসীনতা, সময়মতো না আসা এবং অনিয়মিত সেবা দেয়ায় রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সরকারের দেয়া উন্নতমানের যথেষ্ট যন্ত্রপাতি থাকলেও নেই কোনো প্যাথোলজি সেবা। একসময় অপারেশন থিয়েটারে প্রতিদিন নিয়মিত অপারেশন হলেও এখন কোনো অপারেশনের ব্যবস্থা নেই। সরকারের দেয়া কোটি টাকা মূল্যের ডিজিটাল এক্সরে মেশিন থাকলেও রোগীরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা।
গত কয়েকদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের টয়লেটের বেহাল অবস্থা এবং রোগীদের রুমগুলো অপরিষ্কার। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগী দেখার টিকিটের মূল্য পাঁচ থেকে ১০ টাকা করে যার কাছ থেকে যা পারছেন তাই নিচ্ছেন। ৫০ শয্যায় উন্নতিকরণের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় হাসপাতালের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে খুব খারাপ অবস্থায় ভর্তি রোগী ও জরুরি চিকিৎসা সেবা চলছে।
উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের তরফ বাহাদী গ্রামের নয়ন রহমান (৩০), বুজরুক সন্তোষপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী (২৭), পলিপাড়া মাসিমপুর গ্রামের জাবেদুল রহমান (৩২), আন্দার কোটা গ্রামের বাটুল (৩৪), বৈরাগী কুঠি গ্রামের আছমা বেগম (৩৫), সাদেকা (৪৫), চকদুর্গাপুরের সেলিম সরকার (৪৫), মিজানুর সরকার (৩৫) ও ইয়াচিন আলী (৬২) বলেন, হাসপাতালের রোগীকে দেয়া খাবার খুবই নিম্নমানের, যা খাওয়া উপযোগী না। রুমগুলো অপরিষ্কার এছাড়াও ঠিকমতো হাসপাতালের নার্সদের কাছ থেকে সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মীর হোসেন বলেন, ‘যারা চিকিৎসা দেবেন, সেই চিকিৎসকেরই বড় সঙ্কট এখানে।’
রংপুর জেলা সিভিল সার্জন বলেন, ‘চিকিৎসক উপস্থিতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিশ্চিত করবেন, এখানে আমার কিছু করার নেই।’
চিকিৎসক স্বল্পতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটিতে এবং কিছু চিকিৎসক প্রেষণে আছেন, যার কারণে বর্তমানে ডাক্তার নিয়োগ না হওয়ায় এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে।’
উল্লেখ্য, চিকিৎসকের নয়টি পদ খালি এবং কাজ করছেন মাত্র ২৪ জন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের প্রায় অর্ধেকেই নেই। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মীর পাঁচজন থাকলেও বর্তমানে দুই কর্মী দিয়ে কাজ চলছে।



