ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়েই ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে যানবাহন। ৬০ বছরের পুরনো জরাজীর্ণ সেতুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তবুও প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচল করছে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে।
সেতু পারাপারে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, জেলার দুই উপজেলার বোয়ালমারী ও সালথার সংযোগ সড়কে সালথা উপজেলার নারানদিয়া নামক স্থানে প্রায় ৬০ বছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। কিছুদিন আগেও সেতুর একপাশের রেলিং ভেঙে শূন্যে ঝুলে ছিল। বর্তমানে সেতুর দু’ পাশের রেলিং ভেঙে মাটিতে পড়ে গেছে। পলেস্তারা উঠে বেরিয়ে গেছে রড। সেতুর ওপরে খানাখন্দে ভরা এবং প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সেতুটি যেন পুরোপুরি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ওই ভাঙা সেতুটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও নানা ধরনের যানবাহন। সেতুটি একদম সরু, সাধারণ একটি ভ্যান পার হওয়ার সময় উল্টো পাশে আরেকটি ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ছোটখাটো কোনো গাড়ি পারাপার হলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। তাই ওই স্থানে নতুন একটি সেতু পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রামকান্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ নাসির তালুকদার বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় নারান্দিয়া সেতুটি। প্রায় এক যুগ ধরে সেতুটি ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ মনে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন। আর যানবাহনের চালকরা তো প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছেন ওই সেতুর ওপর দিয়ে।’
সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো: আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘নারান্দিয়া সেতুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। সেতুটি একদম সরু, একটি গাড়ির বেশি পারাপার হতে পারে না। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। নতুন সেতুর অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’



