ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণ

স্বামীর কবরের পাশেই স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে দাফন

শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় স্ত্রী ও তিন সন্তানের লাশ পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এর আগে, রোববার গৃহকর্তা কালাম মিয়ার লাশ সেখানে দাফন করা হয়।

‎গোলাম কিবরিয়া, ‎পটুয়াখালী

Location :

Patuakhali
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু
ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু |নয়া দিগন্ত

নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় স্ত্রী ও তিন সন্তানের লাশ পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। এর আগে, রোববার গৃহকর্তা কালাম মিয়ার লাশ সেখানে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কালাম মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভুইগড় এলাকার একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলায় দু’টি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি।

‎গত রোববার সকাল ৬টার দিকে কালাম মিয়া রান্নাঘরে গ্যাসের চুলায় তরকারি গরম করতে যান। তখন স্ত্রী ও সন্তানরা গভীর ঘুমে ছিলেন। ঘরটিতে আগে থেকেই জমে থাকা লিকেজ গ্যাস দেশলাইয়ের সংস্পর্শে আসতেই বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

জ্বলন্ত আগুনের মাঝেও বাবা কালাম মিয়া ঘরের দরজা খুলে দগ্ধ ছেলে মুন্নাকে বাইরে বের করে দিতে পেরেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনে কামালের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানসহ সবাই আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

‎বার্ন ইউনিটের বিছানায় একে একে নিভে গেছে পাঁচটি প্রাণ। মৃত্যুর এই নির্মম মিছিলে প্রথমে বিদায় নেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালাম মিয়া। দুর্ঘটনার দিন রোববারই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

‎এরপর বুধবার বিকেলে ৭ বছরের শিশু কথার মৃত্যু হয়। এরপর বুধবার রাত ১১টার দিকে একমাত্র ছেলে মুন্নারও (১২) মৃত্যু হয় এবং বৃহস্পতিবার মেজো মেয়ে মুন্নীর (৯) মৃত্যু হয়। পরে শুক্রবার সকাল ৮টায় মা সালমা বেগমের (৪০) মৃত্যু হয়।

‎কালাম মিয়ার চাচাতো ভাই সোহাগ বলেন, ‘প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর আগে কামাল বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে উজিরপুরে বিয়ে করেছিল। কত কষ্ট করে ফতুল্লার ব্যবসাটা দাঁড় করাল। মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন আগেও ঢাকায় ওর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ভাবতেই পারছি না, ভাই-ভাবী আর পুলাপাইনডি এভাবে আমাদের ছেড়ে এক্কেরে চলে যাবে!’

‎কালাম মিয়ার বোন রাসেদা বেগম বলেন, ‘ঈদের আগে ভাইয়ের সাথে শেষ দেখা হয়েছিল। বাড়িতে ভাইয়েরা মিলে একটা নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ ধরছিল। ভাই বলছিল ‘এবার কোরবানির ঈদে বাড়ি আইসা ঘরের কাজ শেষ করমু, বাকি জীবনটা স্ত্রী-সন্তান নিয়া দেশের বাড়িতেই থাকমু।’ ভাই আমার বাড়ি ফিরল, কিন্তু লাশ হয়া!’

‎এদিকে, এ ঘটনায় ভবন কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন এক স্বজন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাসার গ্যাসের পাইপ লিকেজ হওয়ার বিষয়টি কালাম মিয়া আগের দিনই ভবনের দারোয়ানকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ান অলসতা করে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানাননি। যদি সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হতো, তবে আজ একটি পুরো পরিবার এভাবে শেষ হয়ে যেত না।’

‎গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বাউফলের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ পরিবহন ও দাফন সম্পন্ন করার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়।