ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এলপিজি সিলিন্ডারে অরাজকতা, বাড়তি দামে বিক্রি

আন্তর্জাতিক বাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো আগেই দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে পরিবেশকরা বেশি দামে কিনে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। এতে উল্টো জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার
এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে এলপিজি সিলিন্ডার অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত ২৭২-৩৭২ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গ্রামাঞ্চলে এ বাড়তি মূল্য আরো বেশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাস্তবে সেই দামে গ্যাস মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, এলপিজি কোম্পানিগুলো পরিবেশকদের কাছেই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। ফলে বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন।

এ অবস্থায় বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি শেখ ফরিদ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এপ্রিল মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করেছে ১৭২৮ টাকা। পরিবেশকদের কাছে ওই গ্যাস পৌঁছানোর কথা ১৬৩৩ টাকায়। তবে বাস্তবে কোম্পানিগুলো ১২ কেজির সিলিন্ডার পরিবেশকদের কাছে ১৭০০-১৯৪০ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি গত পাঁচ মাস ধরে পরিবেশকদের কমিশনও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে বিইআরসি এলপিজির দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়েছে। এর আগে, মার্চ মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১৩৪১ টাকা।

বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে গ্যাস কিনতে হওয়ায় তারা নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে ভোক্তাদের কাছে প্রতি সিলিন্ডার ২০০০-২১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০-৪০০ টাকা বেশি।

শহরের উত্তর পৈরতলা, কাউতলী, পাইকপাড়া, রামকানাই স্কুল মার্কেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্কুল মার্কেট, মেড্ডা ও খৈয়াসার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হলেও অধিকাংশ দোকানেই বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।

উত্তর পৈরতলার এক ব্যবসায়ী জানান, তিনি প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৮০০ টাকায় কিনে এক হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত লাভ কোম্পানি বা ডিলারদের হাতেই যাচ্ছে।

ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি শেখ ফরিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো আগেই দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে পরিবেশকরা বেশি দামে কিনে বিইআরসি নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারছেন না। এতে উল্টো জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

তিনি আরো বলেন, জেলা প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, অন্যথায় ভোক্তাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।