বান্দরবানে বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই বিভিন্ন দুর্গম এলাকার পাড়াগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে হামে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দুই শিশুসহ ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচিসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়াগুলোতে আক্রান্ত শতাধিক।
বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত বান্দরবান সদর হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি ছিল।
হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে এক জরুরি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় আক্রান্ত এলাকায় মেডিক্যাল টিম গঠন, নষ্ট অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত, এলাকায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে টিকা নিয়ে কুসংস্কার ঠেকাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
বৈঠকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সানিউল ফেরদৌস, সিভিল সার্জন ডা: শাহীন হোসেন চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: ফরহাদ হোসেনসহ জেলা পরিষদের সদস্য চিকিৎসকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তারা সদর হাসপাতালের হামের ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন।
এদিকে সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন ও রোগীদের সহায়তা দেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনীর বান্দরবান সদর জোন থেকে একটি টিম অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হুমায়ুন রশিদের নেতৃত্বে সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেনাবাহিনী থেকে রোগীদের সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়।
এদিকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সানিউল ফেরদৌস একটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। আবার জেলা বিএনপির নেত্রী উম্মে কুলসুমা লীনা, ম্লো স্টুডেন্ট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে হামে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তা দেয়া হয়েছে।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা: শাহীন হোসেন চৌধুরী জানান, মূলত দুর্গম এলাকায় সাধারণ লোকজনদের মধ্যে অসচেতনতা, কুসংস্কারসহ নানা কারণে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত টিকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল টিম গঠন করে বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়েছে।



