চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলমগীর সিকদারের কৃষিজমির মাটি লুটের ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে প্রবাসী আলমগীর সিকদারের নিকটাত্মীয় মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন (৪৫) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন- মোহাম্মদ তারেক (৪২), আবদুল মজিদ মেম্বার (৫৫), রাব্বি (২২), আলমগীর (৪০), মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মো: ইয়াসিন আরাফাত (৩৭)। তারা প্রত্যেকে উপজেলার ঢেমশা ও নলুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের তেমুহানী মৌজায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আলমগীর সিকদারের মালিকানাধীন কৃষিজমি রয়েছে। তার নিকটাত্মীয় মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন সেগুলো দেখাশোনা করেন। বিবাদীরা গত (১৯ মার্চ) গভীর রাতে এক্সক্যাভেটরের সাহায্যে ৫ ফুট গভীর করে ৭৫ ফুট জমির মাটি লুট করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে বোরহান বিবাদীদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধরার চেষ্টা করেন। ফলে তিনি বাধ্য হয়ে সেখান থেকে ফিরে যান। পরে বিষয়টি প্রবাসী আলমগীরকে জানালে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় মাটিকাটা বন্ধ করেন।
পরে পূনরায় গত (২২ মার্চ) গভীর রাতে বিবাদীরা এক্সক্যাভেটরের সাহায্য একই জমি থেকে আবারো মাটি কাটা শুরু করেন। খবর পেয়ে বোরহান কয়েকজনকে নিয়ে বিবাদীদের বাধা দিলে তারা লাঠিসোঁটা ও দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে বোরহান প্রাণ ভয়ে সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পর বিবাদীরা ১০ শতক ফসলি জমির মাটি কেটে লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বাদী মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন জানান, ওই জমিগুলোর প্রকৃত মালিক প্রবাসী আলমগীর সিকদার। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে জমিগুলো আমি দেখাশোনা করি। কিন্তু বিবাদীরা জোরপূর্বক রাতের আঁধারে সেখান থেকে মাটি লুট করে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২০ শতক কৃষিজমির মাটি তারা লুট করে বিক্রি করে দিয়েছেন। শুরুতে আমরা তাদেরকে বাধা দিলেও পরে নিরুপায় হয়ে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছি।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।



