সিলেটের জৈন্তাপুরে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে পাথরবোঝাই ট্রাকচাপায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো এক এএসআই। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের টেংরা নামক এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতিকুর রহমান (৩৭) জৈন্তাপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার গড়বিশুদিয়া গ্রামের মো: শামছুল হক এর ছেলে। তার দুই ছেলে রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত ট্রাকচালক মঞ্জুর হোসেন (৪১) ও হেলপার ফয়সালকে (২১) ট্রাকসহ আটক করা হয়েছে। আটক দু’জন যথাক্রমে ফেনীর দাগনভূঞা ও ফেনী সদর থানার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই সোহেল রানা ও এএসআই আতিকুর রহমান থানার বিভিন্ন তদন্ত কার্যক্রম, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের উদ্দেশে মোটরসাইকেলযোগে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের টেংরা বারাইকান্দি এলাকায় এসকেএস ক্লিনিকের কাছে যাওয়ার পর সিলেটগামী একটি পাথরবোঝাই ট্রাক পেছন দিক থেকে তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এএসআই আতিকুর রহমান গুরুতর আহত হন এবং এএসআই সোহেল রানা সামান্য আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ওসমান গনিসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে এএসআই আতিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে এএসআই আতিকুর রহমান মারা যান।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আহত পুলিশের এএসআই আতিকুর রহমান মারা গেছেন। তাকে চাপা দেয়া ট্রাকটি জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পরিবারের সিদ্ধান্তের পর ময়নাতদন্ত করা হবে এবং লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’



