ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাজার রোডে অবস্থিত নিউ গ্রিন লাইফ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়ার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জলিল কায়সার এবং প্রসিকিউটর শাহেদ আহমেদ।
ইউএনও রাফে মোহাম্মদ ছড়া জানান, নিউ গ্রিন লাইফ হাসপাতাল ২০১৮-১৯ সালে এক বছরের জন্য লাইসেন্স পেলেও পরবর্তীতে তা নবায়ণ করা হয়নি। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।
অভিযানকালে আরো দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। এক্স-রে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস্টের নিয়োগপত্র ও সনদপত্রও পাওয়া যায়নি।
এছাড়া বিভিন্ন সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশও মানসম্মত ছিল না।
এসব অনিয়মের দায়ে মেডিক্যাল প্র্যাক্টিস ও বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৬, ৭ ও ৮ ধারা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসন জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন ও কাগজপত্র সংগ্রহ না করা পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, অভিযানের সময় হাসপাতালের শেয়ারহোল্ডার ও চিকিৎসক ডা: মাসুদ রানাকে উপস্থিত পাওয়া যায়।



