বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ এবনে গোলাম সামাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পরিচয় সংস্কৃতি সংসদ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিচয় সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি কবি ও গবেষক ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি ও গবেষক ড. ফজলুল হক তুহিন।
আলোচনায় অংশ নেবেন কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক ড. নাজিব ওয়াদুদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমেদ মেহ্দী, কবি ও সাহিত্যসমালোচক খুরশীদ আলম বাবু এবং লেখক ও গবেষক ড. সায়ীদ ওয়াকিল।
এবনে গোলাম সামাদ ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীতে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। বাদ আসর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
১৯২৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবনে গোলাম সামাদ। তার বাবা মো. ইয়াসিন ছিলেন স্টেশন মাস্টার এবং মা নছিরন নেসা। তার বড় বোন ছিলেন লেখক ও সমাজকর্মী দৌলতুননেসা খাতুন। তিনি চার ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।
এবনে গোলাম সামাদ ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা সংঘ, বিষ্ণুপুর থেকে বি. কোর্স পাস করেন। ১৯৪৯ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তেজগাঁও কৃষি ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিষয়ে গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। ফ্রান্সে উদ্ভিদ ভাইরাস নিয়ে চার বছর গবেষণা করে পুয়াতিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৬৩ সালে দেশে ফিরে ১৯৬৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ অধ্যাপনা শেষে ১৯৯৫ সালে অবসর নেন। কবি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায় লেখালেখির মাধ্যমে তার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে আবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।
আমৃত্যু দেশ, সমাজ ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে—‘শিল্পকলার ইতিকথা’, ‘উদ্ভিদ সমীক্ষা’, ‘নৃতত্ত্ব’, ‘বাঙালির জন্ম পরিচয়’, ‘ইসলামী শিল্পকলা’, ‘বাংলাদেশে ইসলাম’, ‘রাজশাহীর ইতিবৃত্ত’, ‘নৃতত্ত্বের প্রথম পাঠ’, ‘বাংলাদেশে : সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি প্রতিক্রিয়া’, ‘মানুষ ও তার শিল্পকলা’, ‘প্রাথমিক জীবাণু তত্ত্ব’, ‘বাংলাদেশের আদিবাসী এবং জাতি ও উপজাতি’, ‘আত্মপক্ষ’, ‘আত্মপরিচয়ের সন্ধানে’, ‘বায়ান্ন থেকে একাত্তর’, ‘রাজনীতি বিষয়ক নির্বাচিত কলাম’, ‘বিবিধ বিষয়ক নির্বাচিত কলাম’, ‘আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা চেতনা এবং আরাকান সংকট’ ও ‘আমার স্বদেশ ভাবনা’। তার মৃত্যুর পর ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘বাংলাদেশ কথা’।



