রাঙ্গামাটির আসামবস্তি এলাকায় এক কৃষকের পেঁপে বাগান কেটে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ঘটনায় প্রতিবাদ ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে শহরের বনরূপা চত্বরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)।
পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মো. হাবীব আজম। উপস্থিত ছিলেন পিসিএনপির রাঙ্গামাটি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইব্রাহিম, সহ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুব আলম প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাঙ্গামাটির আসামবস্তি এলাকার ব্রাহ্মণ টিলায় দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যেমে পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছিলেন কৃষক খলিলুর রহমান। কিন্তু তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। খলিলুর রহমান এই অন্যায্য চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাতের আঁধারে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালিয়ে বাগানের প্রায় ১,৪০০টি ফলন্ত পেঁপেগাছ কেটে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। এক রাতেই নিঃস্ব হয়ে যান এই কৃষক।
নিজের কষ্টের ফসল হারিয়ে কান্নাভেজা কণ্ঠে কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, পাঁচ বছরের জন্য লিজ নেয়া জমিতে ১৮০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছিলাম। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেয়ায় এক নিমিষেই তারা আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। ১৪০০ গাছ কেটে আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, কৃষক খলিলুর রহমানের বাগান ধ্বংসে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক খলিলুর রহমানকে সরকারিভাবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাহাড় থেকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী আস্তানা চিরতরে উপড়ে ফেলতে লংগদুর শিবেরআগা পরিত্যক্ত স্থানে পুনরায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করতে হবে।
সমগ্র রাঙ্গামাটি জেলা জুড়ে সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর থেকে কঠোরতর অবস্থান নিতে হবে।
বক্তারা বলেন, পাহাড়ে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর বরদাস্ত করা হবে না। মেহনতি মানুষের ওপর জুলুম বন্ধ না হলে পাহাড়ি-বাঙালি এক হয়ে রাজপথে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।



