বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেছেন, বিএনপি সরকার নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫১ শতাংশ জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে রায় দিয়েছে। জনগণের এ রায় না মেনে বিএনপি ৭০ শতাংশ জনগণসহ জুলাইয়ের শহীদ, পঙ্গু ও আহতদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এর জন্য বিএনপিকে একদিন মাশুল দিতে হবে।
শনিবার (২ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দক্ষিণ জেলা ১১ দলের গণমিছিল পূর্ব বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মাঝে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সাতকানিয়ার কেরানীহাট হেলথকেয়ার হসপিটালের সামনে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সেখান থেকে বিশাল গণমিছিল শুরু হয়ে বান্দরবান রাস্তার মাথায় গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, আজকে ঝড়বৃষ্টি উপেক্ষা করে জনগণ রাজপথে আন্দোলন করছে। অবিলম্বে গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই শহীদদের পক্ষে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় এ আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, ৩৬ জুলাই একদিনে হয়নি। জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান করায় জনগণ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন করে জনতার বিজয় নিশ্চিত করেছে। আজ জনগণের রায় না মেনে বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করছে। একের পর এক অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণকে আবার রাজপথে নামার জন্য উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত সংসদে বিএনপিকে উদ্দেশ্ করে বলেছেন, জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতিটি কাজে আমাদের সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে সরকারের বিরুদ্ধে সংসদের ভিতরে ও বাইরে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকার জুলাইকে মেনে নিয়ে সংস্কারের পথে না হাঁটলে জনগণ সরকারকে হটাতে বাধ্য হবে। তাই, গণভোটের রায় মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুন।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জোবাইরুল আলম মানিক, নেজামে ইসলাম পার্টির যুব বিভাগের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নোমান উদ্দীন, সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাহমুদুল করিম কাসেমীসহ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ (জাগপা) ১১ দলীয় ঐক্যের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।



