সালথায় কাকদী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদ!

‘কাকদী খালের ওপর সেতুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। সেতুটি একদম সরু, একটি গাড়ির বেশি পারাপার হতে পারে না। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। নতুন সেতুর অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’

কাজী আফতাব হোসেন, নগরকান্দা (ফরিদপুর)

Location :

Faridpur
ঝুঁকিপূর্ণ সেতু যেন মৃত ফাঁদ
ঝুঁকিপূর্ণ সেতু যেন মৃত ফাঁদ |নয়া দিগন্ত

ফরিদপুরের সালথায় কাকদী নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুটির পাটাতন ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত দিয়ে নিচে প্রবাহিত নদীর পানি স্পষ্ট দেখা যায়।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও যানবাহন এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেতুটির পশ্চিম পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও ১০টি গ্রাম রয়েছে। ওই গ্রামের সাধারণ লোকজন এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। এছাড়া পূর্ব পাশে কাকদী বাজার, কাকদী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির ওপরের পাটাতন ভেঙে লোহার মরিচা ধরা রড বেরিয়ে এসেছে।কোথাও কোথাও পাটাতন সম্পূর্ণ ধরে কঙ্কালসার রূপ নিয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। ভারি যানবাহন উঠলেই পুরানো সেতুটি ভয়ঙ্করভাবে কেঁপে ওঠে। এরই মধ্যে একাধিকবার অটোরিকশা ও ভ্যানের চাকা গর্তে আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।

উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও মুমূর্ষু রোগী যাতায়াত করেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় এই সেতু পার হওয়া যেন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ার শামিল। কৃষকরা সময়মতো ফসল বাজারে নিতে পারছেন না, জরুরি রোগী পরিবহনে দেখা দিচ্ছে মারাত্মক ভোগান্তি।

পলেস্তারা উঠে গিয়ে বেরিয়ে গেছে রড। সেতুর ওপরে খানাখন্দে ভরা এবং ছোটখাট দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটি যেন পুরোপুরি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

কাকদী গ্রামের বাসিন্দা ডাক্তার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৭০ বছর আগে নির্মাণ করা হয় কাকদ্বীপ খালের ওপর সেতুটি। প্রায় এক যুগ ধরে সেতুটি ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। অত্র এলাকার প্রায় ১০ হাজার লোক মনে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন। আর যানবাহনের চালকরা তো প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে ওই সেতুর ওপর দিয়ে।

সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো: আবু জাফর মিয়া বলেন, ‘কাকদী খালের ওপর সেতুটির বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। সেতুটি একদম সরু, একটি গাড়ির বেশি পারাপার হতে পারে না। ওখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। নতুন সেতুর অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।’