রাজশাহী ব্যুরো
রাজশাহীতে শিশুমৃত্যু রোধ, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং অতি সংক্রমক রোগ হাম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে বরেন্দ্র অঞ্চলের যুব ও উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের বৃহৎ ঐক্য ‘বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস.আই.এম. রাজিউল করিম বরাবর পৃথক স্মারকলিপি দেয়া হয়।
রাজশাহীর সিভিল সার্জনের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোসা. মাহবুবা খাতুন। স্মারকলিপির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, পরিচালক (স্বাস্থ্য) রাজশাহী, জেলা প্রশাসক এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ সময় লেখক ও নদী-পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবার অভাবে প্রতিনিয়ত মানুষ মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। আইসিইউ সেবার অভাবে গত ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ১১ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ-এর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। প্রয়োজনীয় আইসিইউ সুবিধা থাকলে এসব শিশুর জীবন রক্ষা সম্ভব ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসার নগরীখ্যাত রাজশাহীতে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাসজনিত রোগ হাঁচি-কাশি বা সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হামের জটিলতায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়, যা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, রাজশাহী নগরীর টিবি পুকুর এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি ২০১৬ সালে নির্মাণ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনে কাজ সম্পন্ন হলেও এখনো চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটি অযত্নে পড়ে থাকায় শিশুরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এছাড়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাস্থ্য খাত সংস্কারে গঠিত কমিশন ২০২৫ সালের ৫ মে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৪০০-এর বেশি সুপারিশ প্রদান করে, যার মধ্যে ৩৩টি সুপারিশ জরুরি বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—রাজশাহীর ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা, হাম রোগ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং রোগীর অন্তত ১০ শতাংশের জন্য আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি স্বাধীন ও স্থায়ী স্বাস্থ্য কমিশন গঠন এবং স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।



