প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগ মাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নতুনভাবে সামনে এনেছে।
বুধবার বিকেল ৫টার দিকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ডিসি সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। মাজারের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”
তিনি বলেন, মাজার পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “সিলেটের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমরা কাজ করব। মাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সুযোগ থাকবে না। জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে একটি জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।”
জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বদলি প্রসাথে মন্ত্রী বলেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ডিসি সাহেবের বদলি এই সময়ে হওয়াটা হয়তো কাকতালীয়। এটি এর আগেও হতে পারত, পরেও হতে পারত।”
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময়ই সিলেটের আলোচিত জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সিলেটে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর আগে গত ২১ জুন শাহজালাল (রহ.) মাজারে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্থাপিত দানবাক্স প্রকাশ্যে খুলে গণনা করা হয়। এতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা যোগ করে মোট ২২ লাখ টাকার বেশি ব্যাংকে জমা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাজারের প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশ্যে দানের অর্থ গণনা করা হয়। এ উদ্যোগ সিলেটবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও প্রশংসা বৃদ্ধি পায়।
বুধবার বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে স্বাগত জানান ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় বিএনপির মহানগর ও জেলা পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বদলি আদেশের পর থেকে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনেও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।



