মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বড়বাহাদুরপুর ও বড়দোয়ালী মৌজায় ২০২১ সালের ১০ মার্চ শুরু হয় মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ২০ জুন। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়েছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে ৩২ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৮৮ ভাগ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল দেয়া হয়েছে ২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএনএইচসিএল ও এইচএমএইচই নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু বিলম্ব হওয়ায় তাদের কার্যাদেশ বাতিল করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত রেখে ৮৮ ভাগ বিল নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। এতে বন্ধ রয়েছে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ের মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ। দুই বছর আগে কাজের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তা শেষ করতে পারেনি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠানের ভেতর প্রতিদিনই বসে মাদকের আড্ডা। এমতাবস্থায় খুব শিগগিরই দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করার আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।
জানা যায়, দুই বছর আগে শেষ হয়েছে কাজের মেয়াদ। কিন্তু তা আজও আলোর মুখ দেখেনি। এখনো শেষ হয়নি মাদারীপুর নার্সিং কলেজের নির্মাণ কাজ। কোনো কর্মকর্তা কিংবা নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরটা। চুরি হয়ে গেছে মূল্যবান জিনিসপত্র, বাড়ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
ওই এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘাস আর লতাপাতায় ছেয়ে গেছে পুরো কলেজ আঙিনা। অথচ শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার কথা ছিল পুরো কলেজ ক্যাম্পাস। ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে দেখা যায় মাদকসেবীদের মাদক গ্রহণের বিভিন্ন উপকরণ চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। চারদিকে ছড়াচ্ছে মাদকের দুর্গন্ধ। তবে, কবে কখন নতুন করে আবারো শুরু হবে ভবন নির্মাণ কার্যক্রম—এমন প্রশ্ন উঠেছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মনে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো: বাবুল বেপারী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে রয়েছে। কেউ তদারকি করে না। বাকি কাজ শেষ হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ আসেও না। এটি এলাকার মাদকসেবীদের আড্ডখানায় পরিণত হয়েছে।’
স্থানীয় মেম্বার জহির হোসেন পাপ্পু বেপারী বলেন, ‘নার্সিং কলেজটি আমার বাড়ির পাশে অবস্থিত। কলেজটি যখন পুরোদমে চালু হবে তখন শিবচরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে, এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। এই ভবনের কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই এখানে মাদক ও জুয়ার আড্ডা বসে। কলেজটির গুরুত্বপূর্ণ ও দামি সরঞ্জাম ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তাকর্মী থাকলে চোর চক্র চুরি করতে পারত না।’
স্থানীয় খাইরুল ইসলাম রাজীব মাস্টার বলেন, ‘কলেজটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হলে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনেরও কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে। তাই বর্তমান সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি, দ্রুত ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ করে এটি চালু করা হোক।’
মাদারীপুরের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আহসান হাবীব জানান, নির্মাণ কাজের বাকি অংশ দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে কাজ তড়িৎ গতিতে সম্পন্ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।



