বগুড়া অফিস
বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের প্রধান সহকারী পদে পদায়নকে কেন্দ্র করে আবেদনপত্র পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শজিমেক হাসপাতালের উচ্চমান সহকারী শাহীন ইসলাম বগুড়া জেলার যেকোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য থাকা প্রধান সহকারী পদে পদায়নের জন্য আবেদন করেন। হাসপাতালের পরিচালক আবেদনটি ফরওয়ার্ড করে ডিসপ্যাচ শাখার মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর সময় পরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত ফরওয়ার্ডিং চিঠি অপরিবর্তিত রেখে মূল আবেদনপত্র সরিয়ে একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান সহকারী পদে পদায়নের আবেদন সংযুক্ত করা হয়। ওই আবেদনের সাথে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশপত্রও যুক্ত করা হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বিভ্রান্ত করে পদায়নের আদেশ নেয়া হয়।
এ ঘটনায় হাসপাতালের বর্তমান প্রধান সহকারী এস. এম. কামরুজ্জামান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় মামলা, শাস্তি বা অসদাচরণের অভিযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে তাকে সরিয়ে একই প্রতিষ্ঠানে অন্যকে পদায়নের উদ্যোগ প্রশাসনিক বিধিবিধানের পরিপন্থী।
অভিযোগ পাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত শেষে হাসপাতালের পরিচালক তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, প্রতারণার মাধ্যমে পদায়নের আদেশ নেয়া হয়েছে। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে তিনটি সুপারিশ পাঠান। সেগুলো হলো—পদায়নের আদেশ বাতিল, বর্তমান প্রধান সহকারীকে স্বপদে বহাল রাখা এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
এদিকে শাহীন ইসলাম বর্তমানে নিজেকে বিএনপির বিভিন্ন নেতার আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, তিনি অতীতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না নেয়া হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও কর্মপরিবেশ আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পদায়নের আদেশ বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শাহীন ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটির কাছে দেয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি ফরওয়ার্ডিং-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ মোরশেদ বলেন, "শাহীন ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।"



