ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ, ফরিদপুরে ছাত্রদের কঠোর হুঁশিয়ারি

রাতে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস থেকে। এছাড়া ঢাকায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে একাত্মতা জানাতে সন্ধ্যায় ছাত্রদের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

হারুন আনসারী, ফরিদপুর

Location :

Faridpur
বিক্ষোভ মিছিল
বিক্ষোভ মিছিল |নয়া দিগন্ত

জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস থেকে। এছাড়া ঢাকায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে একাত্মতা জানাতে সন্ধ্যায় ছাত্রদের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ।

এর আগে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থাকা বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে বিক্ষোভকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।

এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে হাদি সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার বিকেলে তাৎক্ষণিকভাবে শহরের রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের করে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মিছিলে জেলা সদস্যসচিব আনিসুর রহমান সজল, ইনামুল হোসেন চৌধুরী ও মুখপাত্র জেবা তাহসিনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন।

এদিকে সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলা নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব সাকিব খান সাইফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব সোহেল রানা, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা এবং জুলাই যোদ্ধা হিমেল রাফসান খানের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ ৫ আগস্ট পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের ধীরগতি এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ও মামলার আসামিরা প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামিদের তথ্য দেয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তারা গ্রেফতার হচ্ছে না। পুলিশ অভিযানে গিয়ে কাউকে না পাওয়ার অজুহাত দিচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা বয়স্ক ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে সংখ্যা বাড়াচ্ছে। কিন্তু যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।’

তিনি আরো অভিযোগ করেন, কিছু নীতিহীন আইনজীবী এই অপরাধীদের জামিনের জন্য তদবির করছেন।’

বর্তমান পরিস্থিতিকে মাকাল ফলের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘উপরে পরিবর্তন দেখা গেলেও রাষ্ট্রের ভেতরের জঞ্জাল এখনো দূর হয়নি। উপদেষ্টারা পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের হাতে অপরাধী দমনের মতো পর্যাপ্ত আইনি শক্তি নেই। একটি নির্বাচিত সরকার আসলে তবেই এই অপরাধীদের সঠিক বিচার সম্ভব হবে।’

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করার ইঙ্গিত দিয়ে কাজী রিয়াজ বলেন, ‘যারা স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে এখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।’