সীমান্ত পেরিয়ে উখিয়ায় ইয়াবার বড় চালান, গন্তব্য সারাদেশে

দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল কারবারিরা

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসছে ইয়াবার চালান, উখিয়া-টেকনাফ হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদকের এই ভয়ংকর বিস্তারের মাঝেই কক্সবাজারের উখিয়ায় উদ্ধার হলো দুই লাখ পিস ইয়াবা।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Ukhia
দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল কারবারিরা
দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধার, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালাল কারবারিরা |নয়া দিগন্ত

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে আসছে ইয়াবার চালান, উখিয়া-টেকনাফ হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। মাদকের এই ভয়ংকর বিস্তারের মাঝেই কক্সবাজারের উখিয়ায় উদ্ধার হলো দুই লাখ পিস ইয়াবা।

মঙ্গলবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চালান ফেলে পালিয়ে যায় জড়িতরা।

মাদক কারবারিদের তৎপরতায় সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবা পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে আলোচনায়।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢোকার পর এর একটি অংশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় মজুত করা হয়। পরে বিভিন্ন কৌশলে এসব মাদক কক্সবাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়। এতে মাদকের বিস্তার শুধু সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে দেশের তরুণ সমাজ ও পরিবারগুলোতে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান চালায় পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতিকুর রহমান মজুমদারের নেতৃত্বে এসআই মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় মহাসড়কের পাশে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে বস্তাটি তল্লাশি করে ২০টি কার্ডে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় মোট দুই লাখ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পুলিশের ধারণা, বিপুল পরিমাণ ইয়াবার এই চালানটি পরিবহনের জন্য সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট কারবারিরা চালান ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

উখিয়া থানার ওসি মো: আতিকুর রহমান মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘উদ্ধার করা ইয়াবা আইন অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। চালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।’

সীমান্তের মাদক নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফে একের পর এক বড় ইয়াবার চালান আটকের ঘটনায় মাদক পাচারের ভয়াবহ চিত্র সামনে আসছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হলেও এর বাইরে কত চালান দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের দুর্গম এলাকা ও নানা কৌশল ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা ইয়াবা পাচার করছে। সীমান্ত থেকে উখিয়া-টেকনাফ হয়ে কক্সবাজার এবং পরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে এসব মাদক। ফলে সীমান্তের মাদক এখন আর শুধু সীমান্ত এলাকার সমস্যা নয়; এটি পরিণত হয়েছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকিতে।

মাদকবিরোধী অভিযানে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু চালান আটক বা মাদক উদ্ধার করলেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সীমান্তে নজরদারি জোরদার, পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত, মাদক পরিবহনের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং একই সঙ্গে মাদকের চাহিদা কমাতে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মানবাধিকারকর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,

উখিয়ায় দুই লাখ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে সীমান্ত দিয়ে ঢোকা মাদকের স্রোত ঠেকানো না গেলে এর বিষাক্ত ছোবল থেকে দেশের নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।