ফরিদপুরের ভাঙ্গার পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় এক বিরল সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ চায়ের দোকানি জুবায়ের হোসেন। তার ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হঠাৎ করে পাওয়া যায় নগদ এক লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা। কিন্তু এই অর্থ নিজের করে নেয়ার চিন্তা নয়, বরং প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার দৃঢ় সংকল্পই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।
টাকা পাওয়ার পর মালিকের সন্ধান না পেয়ে জুবায়ের নিজ খরচে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মাইকিং শুরু করেন জুবায়ের হোসেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা নেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় একপর্যায়ে প্রকৃত মালিকের খোঁজ পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় ভাঙ্গা সরকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়ামের উপস্থিতিতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হারিয়ে যাওয়া পুরো অর্থ মোহাম্মদ মিরাজ শেখের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন জুবায়ের। এ সময় তাকে ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয়।
মোহাম্মদ মিরাজ শেখ উপজেলার শাহ মল্লিকদী গ্রামের মরহুম শেখ ঈমান উদ্দিনের ছেলে। তিনি একজন হৃদরোগী। এত বড় অঙ্কের অর্থ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম বলেন, ‘জুবায়ের এ যুগের হিরো। তার মতো মানুষকে স্যালুট জানানো উচিত। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন সৎ ও মহৎ মানুষ। আমি তার সাফল্য কামনা করছি। ভালো কাজের সাথে আমি সবসময় আছি এবং থাকব, ইনশাআল্লাহ।’
একটি ছোট চায়ের দোকান থেকে উঠে আসা এই সততার গল্প আজ ভাঙ্গাবাসীর মুখে মুখে। অর্থের চেয়ে নৈতিকতার মূল্য যে অনেক বড়, জুবায়ের তারই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে থাকলেন। সমাজে এখনো মানবতা বেঁচে আছে, আর সেই মানবতার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমনই সাধারণ অথচ অসাধারণ মানুষরা।


