রাজনীতিতে একেবারেই নবীন অপেক্ষাকৃত কম বয়সে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন মুফতি আমির হামজা। নির্বাচনের মাঠে কয়েক মাস ধরে প্রচার প্রচারণা প্রচারণায় এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। তার প্রতিপক্ষ বিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বিশিষ্ট শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।
বিএনপি ঘাটিখ্যাত কুষ্টিয়ার এই আসনটিতে জামায়াতের প্রচার প্রচারনায় মুখোরিত হয়ে উঠেছে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক। প্রতি নিয়ত নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটের মাঠে নির্ঘুম প্রচারনায় আমির হামজা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পায়ে হেটে হেটে মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে যাচ্ছেন। মাঠঘাটে কৃষকের সাথে মিলে মিশে তিনি ভোট প্রার্থনা করছেন। সহজসুলভ আচরণে আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ভোটারদের সাথে খোলামেলা কথা বলছেন। এলাকার উন্নয়নে বিজয়ী হলে সাধ্যমতে উন্নয়নের চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সারাদিন আমির হামজার সাথে নির্বাচনী প্রচারনায় এই প্রতিনিধি। ফজরের নামাজের পরেই নিজ বাড়িতে নির্বাচনী কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে মত বিনিময় শেষে বেরিয়ে পড়েন নির্বাচনী প্রচারনায়। পাড়া থেকেই শুরু করেন প্রচারনায়। শহরের থানাপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির আশে পাশে মানুষজনের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেই ৬ রাস্তা মোড়ে প্রতি দিনের মত পায়ে হেটে জনগণের সাথে কুশলাদি বিনিময় ও ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বেলা ১১টার দিকে প্যেরসভার চেচুঁয়া দরগাহতলায় নারী সমাবেশে যোগদেন। তিনি সেখানে নারীদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর আগামী দিনের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি পরে বিআইডিস বাজারে গণসংযোগ করেন। আমির হামজা বিকেলে ৩টার দিকে ১০নম্বর ওয়ার্ড নারী সমাবেশ এবং বাদ আছর ৭নম্বর ওয়ার্ডে নারী সমাবেশ করেন। বাদ মাগরিব মিলপাড়া সুইপার কলোনীতে গণসংযোগ করেন। বাদ এশা ৮নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ এবং রাত ৯টায় ২১নম্বর ওয়ার্ডে জনসংযোগ করেন। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ধরনা দিচ্ছেন।
প্রতিদিনই বিভিন্ন মিডিয়ার সাথে কথা বলছেন নির্বাচনের নানান হালচাল নিয়ে। তিনি নির্বাচনের মাঠে কোনো সমস্যা দেখছেন না তবে প্রশাসনের নজরদারী বৃদ্ধির দাবি করেছেন। একজন কোরআনের মোফাচ্ছির ও মুফতি আমিরে হামজা নির্বাচনের মাঠে প্রথম এবং কনিষ্ঠ প্রার্থী হলেও এলাকার মানুষের মন জয় করতে তিনি আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি দিনই এলাকা ভিত্তিক নির্বাচনী জনসংযোগ, প্রচার প্রচারনা, নির্বাচনী মিছিলসহ জনসভায় যোগ দিচ্ছেন তিনি।
মুফতি আমির হামজা নয়া দিগন্তকে জানান, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষের শক্তি বিজয়ী হবে বলে আশা রাখি।
তিনি জানান, এই আসনটি বিএনপির শক্তিশালী ঘাটি। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন এসেছে। ইতিমধ্যে জামায়াত এই আসনে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। আগামী নির্বাচনে নারী ভোটার এবং তরুন সমাজ ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন বলে আশা রাখি।
আমির হামজা বলেন, জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়া থানার লুটকৃত অনেক অস্ত্র এখন উদ্ধার হয়নি। জেলার দৌলতপুর সীমান্ত থেকে অস্ত্র আসছে। এসব অবৈধ অস্ত্রের দায়ভার কে নেবে? আমরা প্রশাসনকে বার বার অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলছি কিন্তু ফল দেখতে পাচ্ছি না।
তিনি আরো জানান, চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের একটি পক্ষ ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে চাইছে তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তৎপর হওয়ার পাশাপাশি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভোটাররা কেন্দ্রে যেয়ে শান্তিপুর্ণ পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পারলে এই আসনে জামায়াতের বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আমির হামজা জানান, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, হাট ঘাট দখল, টেন্ডারবাজি, বালুমহল দখলদারিত্বের অবসান ঘটবে। কুষ্টিয়া চিনিকল পুনরায় চালু, মোহিনী মিলকে দখদারিত্ব থেকে মুক্ত করা, নদী কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে আরো বেশি জাগ্রত করা হবে।



