জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের গৌরবোজ্জ্বল দিন। যা আজ গোটাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। কারণ পৃথিবীতে ভাষার জন্য জীবন দেয়ার ইতিহাস একমাত্র আমাদেরই রয়েছে। ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমসহ সব ভাষা সৈনিক আমাদের প্রেরণার উৎস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের সূতিকাগার। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের পর আমরা বিশ্বের বুকে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ করি।’
শনিবার (২১শে ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের বাকস্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে পেরেছি। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান, সব আন্দোলনই ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ভাষা বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সব বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিজাতীয় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে হবে। একুশের হার না মানার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। দেশপ্রেমিক জনতার মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন সার্থক হবে।’
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ফজলুর রহমান, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান ও হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।
আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত ও দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।



