বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সুনীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
চট্টগ্রামে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোস্ট গার্ড দেশের বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় এলাকা এবং তৎসংলগ্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমুদ্র বন্দরসমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা এবং বাণিজ্যিক পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। এসব বন্দরকে কেন্দ্র করেই দেশের শিল্প, জ্বালানি সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। নিরাপদ ও কার্যকর বন্দর ব্যবস্থাপনা দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, বহিঃনোঙর ও সমুদ্রপথে নিয়মিত টহল, নজরদারি ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে চোরাচালান, ছিঁচকে চুরি এবং জাহাজে অবৈধ কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গত দেড় বছরে ১,৩২০টিরও বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ৪৭টি বাণিজ্যিক জাহাজে বোর্ডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করে Piracy ও petty theft প্রতিরোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে কয়েকটি জাহাজে দ্রুত ফেরত প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কোস্ট গার্ডের কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ২৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘Letter of Appreciation’ প্রদান করেছে, যা সংস্থাটির প্রতি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের আস্থার প্রতিফলন।
বন্দর কার্যক্রমে অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪,২৭৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০.৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে কার্গো হ্যান্ডলিং ১৩৮.১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা ১১.৪৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। এ সময় বন্দরের মাধ্যমে ৫,৪৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, যা একটি রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ReCAAP ও IMO-এর মূল্যায়নে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা রেটিং উন্নত হয়েছে। ২০২৪ সালে ১৩টি Piracy/Petty theft ঘটনার তুলনায় ২০২৫ সালে তা কমে ৪টিতে নেমে এসেছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বীমা প্রিমিয়াম হারেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরো বলেন, দেশের উপকূলীয় ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুনীল অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।



