জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, জনগণের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
রোববার (২৮ জুন) দুপুরে দিনাজপুর জেলা জামায়াত কার্যালয়ে বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী ১১ জুলাই রংপুরে জামায়াতের বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে এই বিশেষ দায়িত্বশীল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা আবদুল হালিম আরো বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ নতুন বাংলাদেশ গঠনে সংস্কার ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এর বিপরীতে গিয়ে জনগণের রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করেছে। এটা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।
তিনি বলেন, জনগণ আশা করেছিল জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় নির্বাচন হবে, কিন্তু সরকার স্থানীয় নির্বাচন না দিয়ে যারা জাতীয় নির্বাচনে হেরেছে তাদেরকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তারের আয়োজন করেছে।
তিনি আরো বলেন, সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের যে অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার জারি করেছিল, তা কার্যকর হওয়ার পরও বর্তমান সরকার সেটি বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুক্ত করেছে। একে এক ধরনের লিখিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জুলাই সনদ যাতে যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়, সেজন্য সংস্কার কমিশন গঠনের পক্ষে জোর দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এটাকেও অবজ্ঞা করা হয়েছে।
মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘জামায়াত দেশ ও জাতির স্বার্থে গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। যা গতকাল জাতীয় সংসদে দুটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশে সরকারপ্রধানের সফরের পর বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।’
তিনি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ জুলাই রংপুরের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার জন্য দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানান।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমির অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য ফকিহ মাওলানা আব্দুল হাকিম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ, মাওলানা সাইদুল ইসলাম সৈকত, জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম ইব্রাহীম ও শহর আমির মাওলানা সিরাজুস সালেহীন। সভায় দিনাজপুর জেলা ও শহর শাখার দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।



