সিলেটে ‘দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার

‘দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলাম ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা জাতির জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, সাম্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা হলে সমাজে দারিদ্র্য অনেকাংশে হ্রাস পাবে।’

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
ছবি : নয়া দিগন্ত

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী বলেছেন, যাকাত অনুগ্রহের বিষয় বা দান নয়; এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি এবং প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত। যাকাত হলো সম্পদশালী মানুষের সম্পদের ওপর দরিদ্র মানুষের ন্যায্য হক।

বুধবার (৪ মার্চ) সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় আয়োজিত ‘দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম। ইসলাম ধর্ম কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা জাতির জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, সাম্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য এসেছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা হলে সমাজে দারিদ্র্য অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, যাকাত কী, কিভাবে যাকাত আদায় করতে হয় এবং যাকাতের হিসাব—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্তর থেকেই ধারণা দেয়া প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ইসলাম ধর্ম মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য প্রবর্তিত হয়েছে। ইসলামের মৌলিক চেতনা ধারণ করে যাকাত ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে যাকাত অন্তর্ভুক্ত না হলে এটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে না। যাকাত আদায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য দফতরকেও আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি যাকাতের অর্থ ক্ষুদ্র আকারে বিতরণ না করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার মতো টেকসই কর্মসূচি গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিভাগীয় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরানের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপ-পরিচালক ড. আনোয়ারুল কাদির।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো: মুহিবুর রহমান। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দফতরের কর্মকর্তা, ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।