জরাজীর্ণ ঘরে অনাহারে দিন কাটছে রায়গঞ্জের অন্ধ হাজেরা খাতুনের

একটি জরাজীর্ণ দোচালা ঘরে হাজেরা খাতুনের বসবাস। ঘরের চারপাশের বেড়ার টিন ও কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। জানালাবিহীন ঘরের দরজাটাও ভাঙা।

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Raiganj
অন্ধ হাজেরা খাতুনের বাড়ি
অন্ধ হাজেরা খাতুনের বাড়ি |নয়া দিগন্ত

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ চরপাড়া গ্রামে চরম অবহেলায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ৫৫ বছর বয়সী হাজেরা খাতুন। দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি প্রতিবন্ধী এ নারী পান না কোনো সরকারি সহায়তা।

অসহায় হাজেরা খাতুন উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সরাইদহ চড়পাড়া গ্রামের মৃত হযরত আলীর মেয়ে।

একটি জরাজীর্ণ দোচালা ঘরে হাজেরা খাতুনের বসবাস। ঘরের চারপাশের বেড়ার টিন ও কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে। জানালাবিহীন ঘরের দরজাটাও ভাঙা। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে জমে হাঁটুসমান পানি, শীতের রাতে বেড়ার ফাঁক দিয়ে আসে হিমেল বাতাস। ঘরের ভেতরে একটি ভাঙা চৌকি ছাড়া আর কিছু নেই। ছেঁড়া একটি কাঁথা বিছিয়ে ও আরেকটি কাঁথা গায়ে জড়িয়ে রাত কাটে তার। বিয়ে হলেও অল্পদিনের মধ্যেই স্বামী তাকে ফেলে চলে যান। এরপর আর কোনো সংসার গড়ে ওঠেনি, নেই কোনো সন্তান। একাকীত্বই তার জীবনের স্থায়ী সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। একসময় চোখে দেখতে পেলেও বয়সের সাথে সাথে হারিয়েছেন দু’চোখের দৃষ্টিশক্তি, একই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে কানের শ্রবণশক্তি।

বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণভাবে অন্যের দয়ার ওপর নির্ভরশীল। গ্রামের কেউ খাবার দিলে খান, না দিলে দিনের পর দিন অনাহারে থাকেন। এ চরম অসহায় অবস্থাতেও তিনি বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কোনো সহায়তা পাননি। শীত মৌসুমেও সরকারি তালিকায় নাম ওঠেনি তার।

স্থানীয়দের দাবি, সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছ থেকে ন্যূনতম সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয় পেলে জীবনের শেষ সময়টুকু মানবিক মর্যাদায় কাটাতে পারবেন হাজেরা খাতুন।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে হাজেরা খাতুনকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হবে।’